বৃহস্পতিবার ব্যাংকটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সিটি ব্যাংকের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা (PAT) দাঁড়িয়েছে ২৪১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯২ কোটি টাকা।
মুনাফা বৃদ্ধির ফলে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ১.৬ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ০.৬ টাকা।
আয়ের মূল উৎসসমূহ ব্যাংকটির এই শক্তিশালী আর্থিক ফলাফলের পেছনে মূল ব্যাংকিং আয়ের বড় ভূমিকা ছিল। ঋণ থেকে সুদ বাবদ আয় ১৪ শতাংশ বেড়ে ১,৩০৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগে ছিল ১,১৪৩ কোটি টাকা। পাশাপাশি বিনিয়োগ থেকে আয় ৬০৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১,০১৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা ব্যাংকটির মোট পরিচালন আয়ের ৩২ শতাংশ।
এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়, কার্ড ফি এবং ট্রেড কমিশন থেকে আয় বাড়ায় ব্যাংকটির ফি ও কমিশন আয় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটির মোট আয় ৩৮ শতাংশ বেড়ে ১,৩৩৮ কোটি টাকা হয়েছে।
ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও সক্ষমতা পরিচালন মুনাফা ৬১ শতাংশ বেড়ে ৭৪৩ কোটি টাকা হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৪৬১ কোটি টাকা। দক্ষ ব্যয় ব্যবস্থাপনার ফলে ব্যাংকটির ‘কস্ট-টু-ইনকাম রেশিও’ ৫২ শতাংশ থেকে কমে ৪৪ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া সম্পদের গুণগত মানোন্নয়ন হওয়ায় খেলাপি ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণের চাপ কমেছে, যা নিট মুনাফা বৃদ্ধিতে বড় সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে।
এমডি’র উদ্বেগ ব্যবসায়িক ফলাফল ইতিবাচক হলেও দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের ঋণ প্রবাহের নিম্নমুখী ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন।
তিনি বলেন, “মুনাফায় প্রবৃদ্ধি এলেও ঋণ প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী প্রবণতা পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্যই একটি উদ্বেগের বিষয়।” মূলত প্রথাগত ঋণ ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জগুলোই তিনি এর মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।