বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
সংশোধিত সাইবার আইনে নাগরিকদের কণ্ঠরোধ না করার আহ্বান—ভয়েস ফর রিফর্মের সংলাপ ব্যাংকিং খাত স্থিতিশীলকরণে সিস্টেমিক ঝুঁকি ও আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে বিআইবিএম-এর কর্মশালা জুলাই-অক্টোবর সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১১.০৪ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম; রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৪১ বিলিয়ন ডলার অস্ট্রেলিয়ার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ, বিএসআরইএর সংবাদ সম্মেলন ২০২৬ সালে মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ মৎস্য খাতের শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার দাবি: বিলস-এফইএস সংলাপ পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা নির্ধারণের দাবি ৩৫ শ্রমিক ফেডারেশনের দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ৬ কার্গো এলএনজি আমদানির সুপারিশ সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির<gwmw style="display:none;"></gwmw> চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার নেমে এসেছে ৩.৮৯ শতাংশে: আইএমইডি

ভুল সিলেবাসে পরীক্ষা: চরম অনিশ্চয়তায় ১ লাখ ৩৫ হাজার এসএসএসি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক, এপ্রিল ২৪, ঢাকা : ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের একটি আকস্মিক ’ সিদ্ধান্তের কারণে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ লাখ ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। 

২০২৩-২৪ সেশনে রেজিস্ট্রেশন করা এসব শিক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের পুরনো সিলেবাসে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।

বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা ২০২৬ সালের নতুন ও সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুযায়ী পড়াশোনা করলেও পরীক্ষা দিতে হচ্ছে পুরনো সিলেবাসে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর গত ২৩ এপ্রিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়, যার ফলে প্রস্তুতি নেওয়ার কোনো সুযোগই পায়নি শিক্ষার্থীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মোট ৪.৫ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে যারা ২০২৩-২৪ সেশনে রেজিস্ট্রেশন করেছিল। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ বা ১.৩৫ লাখ শিক্ষার্থী ২০২৪ সালে নবম শ্রেণিতে নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী পড়াশোনা করেছে। অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে যারা ২০২৩ সালে নবম শ্রেণিতে নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারেনি, তারা মূলত ২০২৪ সাল থেকে নতুন সিলেবাসে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে।

এসব শিক্ষার্থী কখনোই ২০২৫ সালের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস পড়েনি। অথচ শিক্ষা বোর্ডের নতুন নির্দেশনায় তাদের সেই না পড়া সিলেবাসেই পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বলছেন, স্কুল বা শিক্ষা বোর্ড আগে থেকে এই বিষয়ে কোনো নির্দেশনা না দেওয়ায় এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী এখন বিপর্যয়ের মুখে।

পরীক্ষা কেন্দ্রে চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের এক অভিভাবক আব্দুল আউয়াল (মেয়ে বিয়াম মডেল স্কুল এন্ড কলেজর শিক্ষার্থী) জানান, তার মেয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। পরীক্ষার প্রথম দিন বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্ন নতুন সিলেবাস অনুযায়ী হলেও দ্বিতীয় দিন বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে ২০২৫ সালের পুরনো সিলেবাস অনুযায়ী।

তিনি বলেন, “আমার মেয়ে ২০২৩-২৪ সেশনে রেজিস্ট্রেশন করলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০২৩ সালে নবম শ্রেণিতে পড়তে পারেনি। ফলে সে ২০২৪ সাল থেকে নতুন সিলেবাসেই পড়াশোনা করেছে। এখন হুট করে পুরনো সিলেবাসে পরীক্ষা দেওয়ায় তার ফলাফল বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”

শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা বলছেন, গত কয়েক বছরে বারবার সিলেবাস পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীরা এমনিতেই মানসিক চাপে আছে। এ অবস্থায় মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাদের পঠিত সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায়, বড় ধরনের ফলাফল বিপর্যয়ের কারণে ১ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়বে।