দৈনিক সরবরাহ ২১৫ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে; বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে ১৫০০ মেগাওয়াট; রান্নাবান্না ব্যাহত হওয়ায় রাজধানীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন।
ঢাকা, ২৬ জুলাই (বিডিইকোনমি): মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের জেরে দেশজুড়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে গ্যাস সংকট। জাতীয় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকার গৃহস্থালি রান্নাবান্না চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই বলে সংকেত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দেশে দিনে প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। কিন্তু গত মঙ্গলবার মহেশখালীতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘এক্সিলারেট এনার্জি’ পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটি বয়লারে অগ্নিকাণ্ডের পর টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে দৈনিক মোট গ্যাস সরবরাহ বর্তমানে ২১৫ কোটি ঘনফুটের (বিসিএফডি) নিচে নেমে এসেছে।
মেরামত কাজ ও অনিশ্চয়তা
টার্মিনালের কারিগরি ক্ষয়ক্ষতি মেরামতে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে আসা আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল গত বৃহস্পতিবার থেকে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টার্মিনালটি পুনরায় চালু হতে আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে।
গৃহস্থালি রান্নাবান্নায় চরম দুর্ভোগ
গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে বাসাবাড়ির রান্নাঘরে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, কলাবাগান, কাফরুল, কাজীপাড়া, পশ্চিম তেজতুরী বাজার, মিরপুর, রামপুরা এবং বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যে নেমে আসছে। অনেক এলাকায় টানা কয়েক দিন ধরে চুলা জ্বলছে না।
বিকল্প উপায়ের খোঁজে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো মাটির সাময়িক চুলা বানিয়ে খড়ি ও কাঠ দিয়ে রান্না করতে বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে অনেকেই এলপিজি সিলিন্ডার বা ইলেকট্রিক কুকার কিনছেন, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সংকটে ক্ষুব্ধ হয়ে মোহাম্মদপুরসহ একাধিক এলাকায় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে মানববন্ধন করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
বিদ্যুৎ, শিল্প ও পরিবহন খাতে প্রভাব
বাসাবাড়ির পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতেও নেমে এসেছে অস্থিরতা:
- বিদ্যুৎ খাত: গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ১,৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে, যা দেশজুড়ে বাড়তি লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
- যানবাহন ও শিল্প: শহরের সিএনজি পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে গ্যাসের চাপ না থাকায় শিল্পকারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ধীর হয়ে পড়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
গ্রাহকদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ভোগের জন্য আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা। সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে যে কারিগরি দল সার্বক্ষণিক পুনর্দখল ও মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা ও সংলগ্ন জেলাগুলোতে গ্যাসের স্বল্পচাপ পরিস্থিতি বহাল থাকবে বলে সতর্ক করেছে বিতরণকারী সংস্থা টিটাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি।