সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ:
বাংলা কিউআরে লেনদেন ১১০ কোটি টাকা ছাড়াল চট্টগ্রামে রবির ‘এলিট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’, যুক্ত হলো ২১ নতুন অংশীদার ক্রিয়েটিভ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন: ৫০ হাজার কর্মসংস্থান ও জিডিপিতে অবদান বৃদ্ধির লক্ষ্য ২২ দিনে প্রবাসী আয় ২১৫ কোটি ডলার ছাড়াল ইনভেস্ট বাংলাদেশ-এর কার্যক্রম শুরু শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের আহ্বান ঢাকা চেম্বারের প্রবাসী আয়ের একটি অংশ এসএমই খাতে বিনিয়োগ করলে কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে: আইওএম প্রধান<gwmw style="display:none;"></gwmw> গ্রাম থেকে শহর—প্রতিটি মানুষের কাছে উন্নত ইন্টারনেট ও টেলিকম সেবা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর এসএস পাওয়ারকে ৩২ লাখ ডলারের বৈদেশিক ঋণ ছাড়ের অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

২০২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৫ শতাংশ হতে পারে: আইএমএফ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৬ জুলাই, (বিডিইকোনমি)

২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির স্টাফ টিম জানিয়েছে, কার্যকর ও সময়োপযোগী সংস্কার পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে

বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে নতুন একটি অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে ১২ থেকে ১৬ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত ঢাকা সফর করেছেন আইএমএফের প্রতিনিধি দল। সফর শেষে বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। দলের নেতৃত্ব দেন ইভো ক্রজনার

সফর শেষে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইভো ক্রজনার জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে বড় ধরনের রাজস্ব, আর্থিক ও মুদ্রাস্ফীতিজনিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। বৈশ্বিক বাজারে পণ্যের উচ্চমূল্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি করেছে। এর পাশাপাশি ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সীমিত পরিসর অর্থনীতিকে চাপের মুখে ফেলেছে। রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা ও বাহ্যিক চাপ অর্থনীতির ওপর প্রভাব বজায় রেখেছে

আইএমএফ সতর্ক করে বলেছে, ব্যাংকিং খাতের সংকট, রাজস্ব চ্যালেঞ্জ এবং বাহ্যিক চাপের সম্মিলিত প্রভাবে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ঝুঁকি নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়ে গেছে

ম্যাক্রো-আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বিদ্যমান সংকট মোকাবেলায় আইএমএফ প্রতিনিধি দল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেছে:

  • রাজস্ব ও ভর্তুকি সংস্কার: অগ্রাধিকারমূলক সামাজিক ও উন্নয়নমূলক খাতে ব্যয় বাড়াতে রাজস্ব আদায় জোরদার এবং ভর্তুকি যৌক্তিক করা প্রয়োজন। এছাড়া, দুর্বল জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।
  • মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতি: মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনে সরকারকে কঠোর মুদ্রানীতি ও বিচক্ষণ রাজস্ব নীতি বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
  • বিনিময় হার: বিনিময় হারের নমনীয়তা বাড়াতে এবং বাহ্যিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ২০২৫ সালে গৃহীত ‘ক্রলিং পেগ’ ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন অপরিহার্য।
  • ব্যাংকিং খাত সংস্কার: বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করতে ব্যাংকিং খাতে একটি বিশ্বাসযোগ্য এবং ব্যাপকভিত্তিক সংস্কার কৌশল গ্রহণ ও তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।

আইএমএফ প্রতিনিধি দলের প্রধান ইভো ক্রজনার জানান, আগামী মাসগুলোতে নতুন অর্থনৈতিক কর্মসূচির রূপরেখা—যার মধ্যে এর আকার ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের শর্তাবলি অন্তর্ভুক্ত থাকবে—তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।