ঢাকা, ২৩ আগস্ট (বিডিইকোনমি) — দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি সম্প্রসারিত করতে এবং তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগাতে ‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছে সরকার। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এই খাতের অবদান ১.৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি নতুন ৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজেট নথি অনুযায়ী, তরুণ, শিল্পী, কারিগর, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং সৃজনশীল উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক বাজারে তুলে ধরতে এবং টেকসই বিকাশের লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
দেশজুড়ে তৈরি হচ্ছে ‘ক্রিয়েটিভ হাব’
সৃজনশীল খাতের প্রসারে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে বহুমুখী ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব হাবে থাকবে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, পাঠাগারসহ বইয়ের দোকান, সিনেপ্লেক্স, ক্যাফেটেরিয়া এবং আঞ্চলিক ঐতিহ্যবাহী পণ্য প্রদর্শনী ও বিপণনের জন্য নির্ধারিত স্থান।
একই সঙ্গে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলের অধীনে পূর্বাচলে ১৬০ একর জমিতে একটি বিশ্বমানের ‘সেন্ট্রাল ক্রিয়েটিভ হাব’ গড়ে তোলার সুযোগ সমীক্ষা জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া কাওরান বাজার, তেজগাঁওস্থ সার্ভে অব বাংলাদেশ অফিসের সংলগ্ন অব্যবহৃত জমি এবং বিসিকের ফাঁকা প্লটগুলোতেও এসব হাব স্থাপনের সুযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়সহ শিশু একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমিতেও একই উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বর্তমানে বিভিন্ন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবনী ‘ইনোভেশন হাব’ গঠিত হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে সম্প্রসারণের জন্য রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে।
‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ ও বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিং
‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ কর্মসূচির আওতায় তাঁত, মৃৎশিল্প, শীতল পাটি, শতরঞ্জি, কাঠের খেলনা, হাতে তৈরি গয়না এবং টেরাকোটার মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্য বিকাশ ও নকশার মানোন্নয়নে শীর্ষ ডিজাইনারদের নিয়ে গঠিত হচ্ছে ‘ন্যাশনাল পুল অব ডিজাইনার্স’। পাশাপাশি বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা তৈরি করতে ‘বিসিক ডিজাইন সেন্টার’ আধুনিকায়ন করা হবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় সৃজনশীল পণ্যের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে “মেড ইন বাংলাদেশ” (Made in Bangladesh) শিরোনামে একটি জাতীয় ব্র্যান্ড চালু করা হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র ও ওটিটি (OTT) কনটেন্ট নির্মাণের জন্য উন্নত প্রযুক্তির স্টুডিও নির্মাণ এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পারফর্ম্যান্স-ভিত্তিক অনুদান চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
সাংস্কৃতিক পর্যটন ও প্রশিক্ষণ
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক ভবন পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পকে বেগবান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলাট প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সাথে পর্যটন খাতের জন্য বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং রান্নাকলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘ইন্টারন্যাশনাল হসপিটালিটি বেঞ্চমার্ক’ প্রবর্তন করা হবে।
৮০০ কোটি টাকার বিশাল অর্থায়ন
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর) খাত থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা সংস্থান করা হবে।
এই অর্থায়নের মূল লক্ষ্য গ্রামে ছড়িয়ে থাকা কারিগরদের আন্তর্জাতিক মূল্য শৃঙ্খলে (Global Value Chain) অন্তর্ভুক্ত করা, পণ্যের নকশায় বৈচিত্র্য আনা এবং তাদের ব্যাংকিং ও আনুষ্ঠানিক অর্থায়নের আওতায় নিয়ে আসা।