বুধবার ১৭ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ:
প্রস্তাবিত বাজেট অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়, বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ: সেমিনারে বক্তারা গ্রিন ট্রানজিশনে কেউ যেন পিছিয়ে না পড়ে: পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নতুন কর কাঠামো ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে প্রতি টন রডের দাম বাড়তে পারে ১২ হাজার টাকা: বিএসএমএ ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি আইইবি প্রজেক্ট শোকেসিংয়ে সেরা প্রকল্পের পুরস্কার পেল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ‘ডুবোমিনি’ প্রস্তাবিত বাজেটের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ: ফিচ রেটিংস রেকর্ড ১৮.৬১ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে রেমিট্যান্স ৩৪.৩৮ বিলিয়ন ডলার, রিজার্ভ বেড়ে ৩৫.৭৬ বিলিয়ন টাঙ্গাইল শাড়ি বয়ন শিল্পের প্রসারে প্রথমবার তৈরি হলো জাতীয় প্রশিক্ষণ ফ্রেমওয়ার্ক মেয়াদি আমানত ভাঙানো গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণে বিশেষ সুবিধা ঘোষণা ইসলামী ব্যাংকের

নতুন কর কাঠামো ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে প্রতি টন রডের দাম বাড়তে পারে ১২ হাজার টাকা: বিএসএমএ

ঢাকা, ১৭ জুন (বিডিইকোনমি ডটনেট) : নতুন অর্থবছরের (২০২৬-২৭) প্রস্তাবিত বাজেটে শুল্ক-কর বৃদ্ধি এবং বিদ্যুতের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের ইস্পাতশিল্প চরম সংকটের মুখে পড়েছে। এর ফলে প্রতি টন এমএস (MS) রডের উৎপাদন খরচ ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই খাতের উদ্যোক্তারা।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইস্পাত খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) এই আশঙ্কার কথা জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএর সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি এবং নতুন কর ও শুল্ক কাঠামোর কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উৎপাদন খরচ যেভাবে বাড়ছে, তার পুরো প্রভাব গিয়ে পড়বে সাধারণ ক্রেতা বা ভোক্তার ওপর। এর ফলে স্থবির হয়ে থাকা বাজারে রডের বিক্রি আরও কমে যাবে।

বর্তমান সংকট থেকে এই সম্ভাবনাময় শিল্পকে বাঁচাতে সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইস্পাতশিল্পের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত ভ্যাট, শুল্ক ও কর প্রত্যাহার; বিক্রয় পর্যায় ও স্থানীয় স্ক্র্যাপের (Scrap) ওপর বাড়তি ভ্যাট বাতিল; কাঁচামাল আমদানিতে আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক পুনর্বিবেচনা; টার্নওভার কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে আগের মতো ০.৬ শতাংশে ফিরিয়ে আনা এবং দেশের উন্নয়ন বাজেট দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাজারে রডের চাহিদা বৃদ্ধি করা।

বিএসএমএ সভাপতি উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ থাকলেও ইস্পাতশিল্পের ওপর নতুন আর্থিক বোঝা চাপানোর কারণে এই খাতের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি জানান, দেশে বর্তমানে বছরে রডের চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ টন, অথচ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে এক কোটি টনেরও বেশি। চাহিদার তুলনায় সক্ষমতা বেশি হওয়ায় দেশের অধিকাংশ মিল এখন ৫০ শতাংশের কম সক্ষমতায় চলছে, যা কারখানাগুলোর স্থায়ী খরচ (Overhead cost) বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং উদ্যোক্তাদের বড় আর্থিক ঝুঁকিতে ফেলছে।

যেভাবে বাড়বে খরচ:

সংবাদ সম্মেলনে খরচের একটি হিসাব তুলে ধরে বিএসএমএ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি টন রড উৎপাদনে খরচ বেড়েছে ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকা। এছাড়া বন্দর মাশুল, ল্যান্ডিং চার্জ ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে যুক্ত হচ্ছে আরও ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা। পাশাপাশি প্রস্তাবিত বাজেটে ফেরো-অ্যালয় (কাদামাটি ও লোহার মিশ্রিত কাঁচামাল), রিফ্র্যাক্টরি সামগ্রী ও খুচরা যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক বাড়ানোর কারণে টন প্রতি আরও ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা খরচ বাড়বে।

ব্যবসায়ীরা জানান, এসব কারণে সরাসরি উৎপাদন খরচ বাড়বে ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা। অন্যদিকে, বাজারে মন্দা ভাব, কারখানার সক্ষমতার অর্ধেক অব্যবহৃত থাকা, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ ও স্থায়ী পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পরোক্ষভাবে আরও ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকার বাড়তি চাপ তৈরি হবে। সব মিলিয়ে প্রতি টনে অতিরিক্ত খরচ ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত ঠেকবে।

জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে দেশের বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ স্থবির হয়ে আছে। অনেক ঠিকাদার আত্মগোপনে আছেন বা দেশ ছেড়েছেন, আবার অনেক কাজ নকশা অনুমোদনের অভাবে আটকে আছে। তিনি নির্মাণশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে দ্রুত উন্নয়ন বাজেট ছাড় করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএর সাধারণ সম্পাদক ও রানি স্টিলসের চেয়ারম্যান সুমন চৌধুরী সরকারের রাজস্ব নীতির সমালোচনা করে বলেন, শিক্ষা বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো প্রশংসনীয়, কিন্তু যে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী বের হবে, তাদের কর্মসংস্থানের মূল জায়গা হলো শিল্প খাত। সেই শিল্পের ওপর করের বোঝা চাপালে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে না। পরিস্থিতি এমন থাকলে অনেক কারখানা ব্যাংকের ঋণখেলাপি হয়ে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে সোনারগাঁও স্টিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মারুফ মহসিন এবং সিএসআরএমের পরিচালক জাকারিয়া উপস্থিত ছিলেন।