মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ:
অবকাঠামো ও ইউটিলিটি সুবিধার ধীরগতিতে অর্থনৈতিক অঞ্চলে তৈরি হয়েছে আস্থাহীনতা: বেজিয়া সভাপতি সামাজিক সুরক্ষায় জাকাত: সেন্ট্রাল ফর জাকাত ম্যানেজমেন্টের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন প্রকাশ<gwmw style="display:none;"></gwmw> বাংলা কিউআর লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি শূন্য নির্ধারণ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক ভ্রমণ কোটার বাইরে আন্তর্জাতিক কার্ডে বিদেশে শিক্ষার ফি পরিশোধের অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ লিজিং প্রতিষ্ঠানকে ‘অকার্যকর’ ঘোষণা, রেজল্যুশন কার্যক্রমে প্রশাসক বসালো বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ‘ন্যানো ঋণ’ চালুর উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষায় ২৫ ল্যাপটপ দিল স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বিদেশে বাংলাদেশি খেলাপিদের সম্পদ অনুসন্ধানে ৮ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশ ব্যাংক টাকায় বিদেশি ভ্রমণ প্যাকেজ বিক্রির সুযোগ পেলেন ট্যুর অপারেটররা: বাংলাদেশ ব্যাংক

মার্চের প্রথম ১৪ দিনেই এলো ২২০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

# চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত এসেছে ২৪.৬৫ বিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চের প্রথম ১৪ দিনে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্সে ৩৫.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।

মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহে (১৪ দিনে) প্রবাসী কর্মীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২২০ কোটি (২.২০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ১৬২ কোটি ডলার। বিশেষ করে ১২ মার্চ থেকে ১৪ মার্চের মধ্যে মাত্র তিন দিনেই দেশে ২৮৪ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর ব্যাপক প্রবণতাকে নির্দেশ করছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ নতুন রেকর্ড গড়ছে। গত বছরের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১৪ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৪.৬৫ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২০.১১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২২.৬ শতাংশ।

রেমিট্যান্সের এই বিশাল উল্লম্ফন গত কয়েক মাসের ধারাবাহিক সাফল্যেরই অংশ। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে ঈদুল ফিতরের প্রভাবে ৩.২৯ বিলিয়ন ডলার এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

বৈদেশিক মুদ্রার এই শক্তিশালী প্রবাহ দেশের রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস (Gross) রিজার্ভ ছিল ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে আইএমএফ-এর বিপিএম-৬ (BPM-6) পদ্ধতি অনুযায়ী বর্তমানে নিট রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হুন্ডি বিরোধী কঠোর অবস্থান এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল হওয়ার কারণে প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন।

ব্যাংক কর্মকর্তা ও আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা মার্চের এই উল্লম্ফনের পেছনে দুটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন:

  • রমজান ও ঈদের প্রস্তুতি: প্রতিবছরই রমজান ও ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা তাদের পরিবারের অতিরিক্ত খরচ মেটাতে বেশি পরিমাণে অর্থ দেশে পাঠান।
  • ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা: প্রথাগত ব্যাংকিং চ্যানেলের ওপর আস্থা বৃদ্ধি এবং ডলারের স্থিতিশীল বিনিময় হারের কারণে প্রবাসীরা এখন অবৈধ হুন্ডি পথ পরিহার করে বৈধ পথ বেছে নিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই গতি অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের মার্চ মাস একক মাস হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে রেমিট্যান্স আয়ের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে।