ঢাকা, ২৪ আগস্ট (বিডিইকোনমি) — বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং বলেছেন, দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে এবং দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন তরুণ প্রজন্মের লেখকরা।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত ‘নি হাউ চায়না’ (Ni Hao China) রাইটিং অ্যাওয়ার্ড-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চায়না অ্যালামনাই (অ্যাবকা) ও ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চায়না অ্যালামনাইয়ের সহসভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাইনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির যুগ্ম সম্পাদক ডা. মো. আবু কাউসার স্বপন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক। পরিচালনায় সহায়তা করেন অ্যাবকার সমাজসেবা সম্পাদক জান্নাতুন নাহার।
সহ-আয়োজকদের পক্ষ থেকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক মা শিয়াওইয়ান এবং বিজয়ীদের পক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কনক পারভেজ বক্তব্য রাখেন।
চলতি বছরের ৬ এপ্রিল থেকে ১০ জুন পর্যন্ত চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষার শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতাটি উন্মুক্ত ছিল। এ সময় বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত মোট ৫১টি লেখা প্রতিযোগিতায় জমা পড়ে।
তিন সদস্যের বিচারক প্যানেলে দায়িত্ব পালন করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মফিজুর রহমান, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বশির উদ্দিন খান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম ইমশিয়াত।
বিচারক প্যানেলের মূল্যায়নে তিন বিভাগে বিজয়ীরা হলেন:
- চীনের গভর্ন্যান্স ও উন্নয়ন মডেল: প্রথম হয়েছেন মো. সৈকত হোসেন, দ্বিতীয় মোহাম্মদ সাইয়েদুল ইসলাম এবং তৃতীয় এ কে এম কানক পারভেজ।
- চীনে শিক্ষা ও জীবন অভিজ্ঞতা: প্রথম হয়েছেন মোহাম্মদ মনসুর আলম, দ্বিতীয় মো. আবু কাওসার এবং তৃতীয় মো. মনজুরুল হাসান।
- চীনের সংস্কৃতি, পর্যটন ও প্রধান পর্যটন গন্তব্য: প্রথম হয়েছেন মো. তালেবুর ইসলাম, দ্বিতীয় আফিফা ইবনাত লামিয়া এবং তৃতীয় মোহাম্মদ শোয়াইব।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মিরাজ আহমেদ, রাজনীতি অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক সওদাগার মেজবাহ আলম, অ্যাবকার যুগ্ম সম্পাদক মারুফ হাসান, বাংলাদেশ-চায়না ইয়ুথ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিওয়াইএসএ) অফিস সম্পাদক মোহাম্মাদ আদিল এবং সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ড. জান্নাতুল আরিফ উপস্থিত ছিলেন।