ঢাকা, ২৫ আগস্ট (বিডিইকোনমি) — দেশের বৃহত্তম অ্যাপ স্টোর ও ডেভেলপার প্ল্যাটফর্ম ‘বিডিঅ্যাপস’-এর সর্বকনিষ্ঠ ডেভেলপার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে ১১ বছর বয়সী যমজ ভাই তানভীর হাসান ও তাফসীর হাসান।
শরীয়তপুরের এই দুই ভাই ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই গত তিন বছর ধরে ইউটিউব ও ইন্টারনেটের বিভিন্ন ফ্রী রিসোর্স ব্যবহার করে তারা কোডিং এবং অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট শিখেছে।
নিজস্ব কোনো ল্যাপটপ বা কম্পিউটার না থাকায় এতদিন মায়ের স্মার্টফোনে অনুশীলনের মাধ্যমেই তারা তিনটি অ্যাপ তৈরি করতে সক্ষম হয়।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে তানভীর ও তাফসীরের প্রতিভার কথা জানতে পেরে গত ১৩ আগস্ট রবি আজিয়াটা পিএলসির করপোরেট কার্যালয়ে তাদের আমন্ত্রণ জানায় বিডিঅ্যাপস কর্তৃপক্ষ। সেখানে তারা নিজেদের তৈরি অ্যাপ প্রদর্শন করে এবং কোডিং শেখার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে। তাদের মেধা বিবেচনা করে বিডিঅ্যাপস দুই ভাইকে তাদের প্ল্যাটফর্মের সর্বকনিষ্ঠ ডেভেলপার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
পরবর্তীতে গত ১৯ আগস্ট বিডিঅ্যাপসের একটি প্রতিনিধি দল শরীয়তপুরে তাদের বাড়িতে গিয়ে এক প্রশিক্ষণ সেশনের আয়োজন করে। সেখানে বিডিঅ্যাপসের প্রকৌশলীরা দুই ভাইকে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, কোডিং চর্চা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত অ্যাপ তৈরির প্রাথমিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
তাদের প্রযুক্তিশিক্ষার পথকে সুগম করতে বিডিঅ্যাপসের পক্ষ থেকে তাদের হাতে একটি নতুন ল্যাপটপ, ব্র্যান্ডেড উপহার সামগ্রী এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোডিং শেখার জন্য ‘ফুল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট কোর্স’-এর স্কলারশিপ তুলে দেওয়া হয়।
প্রাথমিক সমাপনীতে মেধাভিত্তিক বৃত্তি পাওয়া তানভীর ও তাফসীর ভবিষ্যতে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হতে চায়। মাইক্রোসফট বা নাসার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি অত্যাধুনিক এআই-চালিত রোবট তৈরি করার স্বপ্নের কথা জানিয়েছে এই দুই ভাই।
এ বিষয়ে রবি আজিয়াটা পিএলসির হেড অব মার্কেটিং মোহাম্মদ শওকত কাদের চৌধুরী বলেন, “প্রতিভা বিকাশে সুযোগের সীমাবদ্ধতা কোনো বাধা নয়, প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা। আমরা চাই তানভীর ও তাফসীরের মতো তরুণরা অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের পাশাপাশি এআই ও নতুন প্রযুক্তিতে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুক।”
রবি আজিয়াটা পিএলসির ডিজিটাল উদ্যোগ ‘বিডিঅ্যাপস’-এ বর্তমানে এক লাখের বেশি ডেভেলপার কাজ করছেন—যার প্রায় ২৫ শতাংশই নারী—এবং প্ল্যাটফর্মটিতে প্রকাশিত অ্যাপের সংখ্যা এক লাখেরও বেশি।