মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের সৌজন্য সাক্ষাৎ জনবল সংকটে ধুঁকছে ১৫৩ কোটি টাকায় আধুনিকায়ন করা সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা ভোটের গাড়ির ‘জনমত বাক্সে’ প্রধান উপদেষ্টাকে ৪০ হাজারের বেশি মানুষের মনের কথা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র ট্যারিফ চুক্তি: বিজিএমইএ-র প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ও অভিনন্দন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক এখন থেকে ‘স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক’ আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং লেনদেনের সময়সূচী নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্বাচন উপলক্ষে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার ৪ দিন বন্ধ বিশ্বমন্দা ও অভ্যন্তরীণ সংকটে হোঁচট খাচ্ছে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত, আশার আলো দেখাচ্ছে জানুয়ারি বিটকয়েনের বড় ধস: এক সপ্তাহে ২৫% মূল্য হ্রাস, নেমেছে ৬৩ হাজার ডলারের নিচে

বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ‘নীতিগত দুর্বলতা ও প্রায়োগিক অরাজকতা’র শিকার: টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :বাংলাদেশে ই-বর্জ্য (ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা বর্তমানে চরম নীতিনির্ধারণী স্থবিরতা ও সুশাসনের ঘাটতিতে জর্জরিত বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, দেশে উৎপন্ন ই-বর্জ্যের ৯৭ শতাংশই কোনো প্রশাসনিক তদারকি ছাড়াই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ধানমণ্ডিস্থ টিআইবি কার্যালয়ে “বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়” শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

গবেষণার মূল চিত্র:

  • অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের আধিপত্য: দেশে উৎপাদিত ই-বর্জ্যের মাত্র ৩ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক পুনঃপ্রক্রিয়ার আওতায় আসছে, বাকি ৯৭ শতাংশই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপায়ে প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে।
  • অবৈধ আমদানি-রপ্তানি: আমদানি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও গত তিন বছরে প্রায় ১৫ হাজার টন বিষাক্ত ই-বর্জ্য দেশে ঢুকেছে। অন্যদিকে, বাসেল কনভেনশন লঙ্ঘন করে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদেশে ই-বর্জ্য উপাদান রপ্তানি করা হচ্ছে।
  • ইভিএম ও সোলার প্যানেল ঝুঁকি: বিগত সরকারের আমলে কেনা ইভিএম মেশিনের সঠিক ব্যবস্থাপনা না হওয়া এবং সোলার প্যানেল থেকে ২০৬০ সালের মধ্যে প্রায় ৫৫ লাখ টন ই-বর্জ্য তৈরির আশঙ্কা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
  • ভোক্তার অসচেতনতা: দেশের ৮৮ শতাংশ ভোক্তা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানেন না এবং ৭২ শতাংশ ব্যবহারকারী অচল সরঞ্জাম বাড়িতেই অনিরাপদ অবস্থায় ফেলে রাখছেন।

টিআইবির বক্তব্য:

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আমদানি নিষিদ্ধ হলেও হাজার হাজার টন বিষাক্ত ই-বর্জ্য দেশে ঢুকছে, যা পরিবেশ অধিদপ্তরসহ তদারকি সংস্থাগুলোর পেশাগত ব্যর্থতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আইনি কাঠামোটি বর্তমানে কেবল কাগুজে দলিলে সীমাবদ্ধ।” তিনি আরও জানান, নিবন্ধন ও ছাড়পত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত আর্থিক লেনদেন ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

উত্তরণে টিআইবির ১২ দফা সুপারিশ:

বিদ্যমান অরাজকতা নিরসনে টিআইবি ১২ দফা সুপারিশ পেশ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১. ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১ এবং বাসেল কনভেনশনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

২. পরিবেশগত ছাড়পত্র ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল করে দুর্নীতি বন্ধ করা।

৩. পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিটিআরসির মধ্যে সমন্বিত ‘ওয়ান-স্টপ’ সেবা চালু করা।

৪. অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ভাঙ্গারিওয়ালাদের আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাঠামোর আওতায় আনা।

৫. সোলার প্যানেল ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের বর্জ্য মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী ‘ই-বর্জ্য রোডম্যাপ’ প্রণয়ন করা।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি সতর্ক করে দেয় যে, যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে এই বিষাক্ত বর্জ্য জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য এক অপ্রতিরোধ্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।