শুক্রবার ২৯ মে, ২০২৬
সর্বশেষ:
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে দেশজুড়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত আইএমএফের সঙ্গে নতুন ৪০০-৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, বাতিল হচ্ছে চলমান তহবিল আগামী ২০২৬-২৭: বৈশ্বিক অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোর দেওয়ার পরামর্শ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মুনাফাসহ পূর্ণ টাকা ফেরত চান ৬ এনবিএফআইয়ের আমানতকারীরা; শুধু মূলধন ফেরতের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান অর্থনীতিতে গতি আনতে ও ২৫ লাখ কর্মসংস্থানের টার্গেটে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা আস্থা হারানো ইসলামী ব্যাংকের পুনরুদ্ধারের লড়াই এবং ওমর ফারুক খানের নেতৃত্বের গল্প আসন্ন বাজেটে পরোক্ষ করের ফাঁদ: অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়ার আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশ করার দাবি এনডিএফের<gwmw style="display:none;"></gwmw> বাংলাদেশ সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দিলে কার্যকর অংশীদারিত্বে এগিয়ে আসবে নিউজিল্যান্ড: বিজিএমইএ-এর সঙ্গে বৈঠকে হাইকমিশনার

ঋণ বিতরণে সক্ষম হলেও আদায়ে দুর্বল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক: গভর্নর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণে সক্ষম হলেও সময়মতো সেই ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে এখনো দুর্বল রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সঠিক গ্রাহক নির্বাচন করা গেলে ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে যায়।

সোমবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত ‘সোনালী ব্যাংক বার্ষিক সম্মেলন ২০২৬’-এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাহসী ব্যাংকিং ও বাণিজ্যিক মডেলের গুরুত্ব গভর্নর উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে নানা বিধিনিষেধের কারণে সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে এক ধরনের অতিরিক্ত সতর্কতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে ঋণের প্রবাহ সংকুচিত হয়েছে। তবে ২০০০ সালের আগের মতো সীমিত ঋণ প্রবাহের মডেল বর্তমান আধুনিক অর্থনীতির জন্য টেকসই নয়।

তিনি বলেন, “ব্যাংক যদি আমানত সংগ্রহ করে তা বৃহৎ অর্থনীতিতে কার্যকর অবদান রাখতে না পারে, তবে সেই অর্জন সীমিত। সোনালী ব্যাংককে এখন আরও সাহসীভাবে ঋণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে হবে।”

কনজিউমার ও হাউজিং লেন্ডিংয়ে পিছিয়ে থাকা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় দেশের সরকারি ব্যাংকগুলো কনজিউমার লেন্ডিং (ভোক্তা ঋণ) এবং হাউজিং লেন্ডিং (গৃহ ঋণ) খাতে অনেক পিছিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেন গভর্নর। তিনি সোনালী ব্যাংককে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ব্যাংক’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যা পুরোপুরি বাণিজ্যিক নীতিতে পরিচালিত হয়ে মুনাফা নিশ্চিত করবে।

আর্থিক সূচকের ইতিবাচক পরিবর্তন সোনালী ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য নিয়ে গভর্নর বেশ কিছু আশাব্যঞ্জক তথ্য শেয়ার করেন:

মুনাফা: গত বছরের মুনাফা ব্যাংকের মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতি পূরণে ব্যবহার করা হবে। ভবিষ্যতে ব্যাংকটি লভ্যাংশ প্রদানেও সক্ষম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

খেলাপি ঋণ (NPL): সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ইতোমধ্যে ১৮ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। মানসম্মত ঋণের পরিমাণ বাড়ালে এই হার আরও কমবে।

স্বায়ত্তশাসন: বর্তমান সরকার সোনালী ব্যাংককে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালনার পূর্ণ স্বাধীনতা দেবে এবং পরবর্তী সরকারগুলোও এই ধারা বজায় রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ভবিষ্যৎ নির্দেশনা বক্তব্যের শেষে গভর্নর সোনালী ব্যাংককে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেন: ১. রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি: বৈদেশিক মুদ্রা আনতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। ২. এসএমই উদ্যোক্তা চিহ্নিতকরণ: মাঠপর্যায়ে দক্ষ ও ভালো এসএমই গ্রাহকদের খুঁজে বের করা। ৩. রপ্তানি খাতে সহায়তা: দেশের রপ্তানি বাণিজ্য শক্তিশালী করতে আরও জোরালো ভূমিকা রাখা।