নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. সাদিক আহমেদ মুদ্রানীতি কমিটি (এমপিসি) থেকে পদত্যাগ করায় নীতি সুদহার (পলিসি রেট) কমানোর বিষয়ে নির্ধারিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বুধবার নবনিযুক্ত গভর্নর মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল। ব্যবসায়ীদের ঋণের খরচ কমাতে এই সভায় নীতি সুদহার কমানোর ঘোষণা আসতে পারে বলে ব্যাপক গুঞ্জন ছিল।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) ভাইস চেয়ারম্যান এবং বিশ্বব্যাংকের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ড. সাদিক আহমেদ আজ বুধবার তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। সাত সদস্যের মুদ্রানীতি কমিটিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক মনোনীত একমাত্র সদস্য ছিলেন তিনি।
বৈঠক স্থগিতের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ না জানালেও ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, কমিটিতে হঠাৎ শূন্যতা তৈরি হওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে সুদহার কমানো নিয়ে চলমান বিতর্কের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুদ্রানীতি কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক বলেন, “মঙ্গলবার বিকেলে আমাদের জানানো হয়েছে যে বৈঠকটি হচ্ছে না। এটি সম্ভবত আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটির পরে অনুষ্ঠিত হতে পারে।”
সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়া নতুন গভর্নর বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বর্তমান ১০ শতাংশ নীতি সুদহার ২৫ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমানোর উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পূর্ববর্তী প্রশাসনের কঠোর মুদ্রানীতি থেকে সরে এসে ঋণের খরচ কমানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তবে অর্থনীতিবিদ এবং কমিটির কিছু সদস্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, অকাল শিথিলকরণ মূল্যস্ফীতির চাপকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা বর্তমানে ৮ শতাংশের উপরে অবস্থান করছে।
গভর্নর মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের এমপিসি-র অন্যান্য সদস্যরা হলেন—ডেপুটি গভর্নর মো. হাবিবুর রহমান, প্রধান অর্থনীতিবিদ মো. আখতার হোসেন, বিআইডিএস মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী নাহার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদ সালাহউদ্দিন নাসের।