মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ৮ মাসে জ্বালানিতে অতিরিক্ত খরচ ৪১২ কোটি ডলার: উপদেষ্টা তিতুমীর সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করল সরকার নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা জরুরি: শিক্ষামন্ত্রী পুঁজিবাজারে তরুণদের অংশগ্রহণ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য: বিএসইসি কমিশনার মধ্য অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৩.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, অর্জন ১.৭৪ বিলিয়ন ডলার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ: ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিতরণ ছাড়িয়েছে ১৪,৫১৯ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণ ব্যবসার লাইসেন্সে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বিত সার্কুলার জারি গবেষণা, প্রযুক্তি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের আহ্বান: এইউএসটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলন শুরু ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা ও আগ্রাসন নিয়ে উদ্বেগ, মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

এস আলমের সম্পদ বিক্রি করে ইসলামী ব্যাংকের লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধারের দাবি গ্রাহকদের

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, বিডি ইকোনমি

ঢাকা, ২ জুন ২০২৬ :ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ গ্রাহকরা। ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের দেশীয় সম্পদ ও মালিকানা বাজেয়াপ্ত ও তরলীকরণ (বিক্রি) করে ইসলামী ব্যাংকের লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের আহ্বায়ক নূর-উন-নবী ৭ দফা দাবি উত্থাপন করেন। একই সাথে দাবি আদায়ে আগামীকাল বুধবার সকাল ১১টায় দিলকুশায় বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।

নূর-উন-নবী জানান, তাদের এই ৭ দফা দাবির একটি অনুলিপি ইতিমধ্যেই জরুরি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের ৭ দফা দাবি:

১. নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের অবিলম্বে পদত্যাগ।

২. ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে মো. ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল করা।

৩. অতীতের আর্থিক লুটপাটের সঙ্গে জড়িত বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।

৪. ব্যাংক রেজোলিউশন অ্যাক্ট-এর ধারা ১৮(এ) বাতিল করা।

৫. বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের জব্দকৃত দেশীয় সম্পদ ও মালিকানা শেয়ার বিক্রির (লিকুইডেশন) মাধ্যমে লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার করা।

৬. এস আলম গ্রুপ যাতে ভবিষ্যতে কখনো ইসলামী ব্যাংক বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারে, সেজন্য আইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।

৭. ইসলামী ব্যাংকসহ সামগ্রিক ব্যাংকিং খাত লুণ্ঠনের সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

যেভাবে ঘনীভূত হলো নেতৃত্ব সংকট

ঈদের ছুটির ঠিক আগের শেষ কার্যদিবসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক নিযুক্ত স্বাধীন পরিচালক ও তৎকালীন চেয়ারম্যান এম. জুবায়দুর রহমান আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করলে ইসলামী ব্যাংকে নেতৃত্ব সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে, ওই দিন রাত আনুমানিক ৯টায় বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খুরশীদ আলম ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্রের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খানের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান ফোরামের নেতারা। মুখপাত্রের ওই বক্তব্যকে ‘গভীর রাজনৈতিক ও অসত্য’ বলে আখ্যায়িত করেন তারা।

গত সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান দাবি করেছিলেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্যরা ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, রাজপথের আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হবে না।

মুখপাত্রের এই মন্তব্যের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলনকারী গ্রাহকরা বলেন, “নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন রাজনৈতিক বক্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছি না, আমরা সাধারণ ও প্রকৃত গ্রাহক। আমরা কেবল ব্যাংকের আমানতকারী ও ক্লায়েন্ট হিসেবে আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে এখানে এসেছি।”

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।