সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
পুঁজিবাজারে তরুণদের অংশগ্রহণ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য: বিএসইসি কমিশনার মধ্য অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৩.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, অর্জন ১.৭৪ বিলিয়ন ডলার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ: ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিতরণ ছাড়িয়েছে ১৪,৫১৯ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণ ব্যবসার লাইসেন্সে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বিত সার্কুলার জারি গবেষণা, প্রযুক্তি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের আহ্বান: এইউএসটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলন শুরু ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা ও আগ্রাসন নিয়ে উদ্বেগ, মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষায় জোর দিতে ঢাকায় তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু ১৭ অক্টোবর নতুন সংসদ সদস্যদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রশিক্ষণে সহায়তা দিতে প্রস্তুত ইউএনডিপি আজারবাইজানে সিইসিএ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

মে মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৫.৩৪ শতাংশের বিশাল প্রবৃদ্ধি; চলতি অর্থবছরে এসেছে ৩২.৭৫ বিলিয়ন ডলার

ঢাকা, ১ জুন, বিডিইকোনমি — দেশে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ক্ষেত্রে এক বিশাল সুসংবাদ এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি ২০২৬ সালের মে মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৫.৩৪ শতাংশের এক অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

গত ১ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে প্রবাসী কর্মীরা মোট ৩.৪২ বিলিয়ন (৩৪২ কোটি) মার্কিন ডলার সমপরিমাণের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের (মে ২০২৫) ২৯৬ কোটি (২.৯৬ বিলিয়ন) ডলারের তুলনায় অনেক বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৮ মে দেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে অতিরিক্ত অর্থ পাঠানোয় মে মাসে রেমিট্যান্সের এই জোয়ার তৈরি হয়েছে।

মে মাসের এই রেকর্ড প্রবাহের ওপর ভর করে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই ২০২৫ থেকে মে ২০编制৬) মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২.৭৫ বিলিয়ন (৩,২৭৫ কোটি) মার্কিন ডলারে। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সামগ্রিকভাবে ১৯ শতাংশের এক শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই ২০২৪ থেকে মে ২০২৫) দেশ দেশে ২৭.৫ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান ইউএনবি-কে বলেন, প্রবাসী আয়ের এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের নীতিগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, “বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোকে উৎসাহিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে সব ধরনের পলিসি সাপোর্ট বা নীতিগত সহায়তা চলমান থাকবে।”

এই ইতিবাচক ধারা সম্পর্কে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ তৌফিকুল ইসলাম খান ইউএনবি-কে বলেন, নীতিগত সংস্কার ও উৎসব—এই দুইয়ের সমন্বিত প্রভাবেই রেমিট্যান্সের এই বড় ধরনের গতি সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল ব্যাংকিং চ্যানেলগুলোর ক্রমাগত আধুনিকায়ন, ঈদের মতো বড় ধর্মীয় উৎসবের কারণে বিপুল পরিমাণ মৌসুমি অর্থপ্রবাহ এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দেওয়া প্রতিযোগিতামূলক ডলার রেট প্রবাসীদের বৈধ পথে টাকা পাঠাতে দারুণভাবে উৎসাহিত করেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও ডলার সংকটের এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে রেমিট্যান্স কাঠামোর এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে বড় ধরনের সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।