বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ:
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মহাযুদ্ধের দামামা, বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস জ্বালানি সংকটের শঙ্কা: আলোকসজ্জা পরিহার ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমানোর নির্দেশ সরকারের সাদিক আহমেদের পদত্যাগ: নীতি সুদহার কমানোর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক স্থগিত করল বাংলাদেশ ব্যাংক বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে চীনা প্রতিষ্ঠান; ৪,১৭০ জনের কর্মসংস্থান<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> ইরানে হামলায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার: যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ<gwmw style="display:none;"></gwmw> রপ্তানি সংকটের মুখে পোশাক শ্রমিকদের বেতন দিতে বিশেষ ঋণ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে: গভর্নর রপ্তানি খাতে ২৫০০ কোটি টাকা ছাড়: সরকারকে বিজিএমইএ’র ধন্যবাদ ডিসেম্বরে শ্রেণিকৃত ঋণ কমেছে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা

বিশ্লেষণ: ইরানে দীর্ঘমেয়াদী হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের, কিন্তু ফুরিয়ে আসছে কি গোলাবারুদের মজুদ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা: ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন এক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানের সাথে এই সংঘাত প্রয়োজনে চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। কিন্তু এই দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ঘোষণা মার্কিন সামরিক সক্ষমতা এবং বিশেষ করে তাদের গোলাবারুদের মজুদ (Ammunition Stockpile) নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের সক্ষমতা নিয়ে সংশয়

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই যুদ্ধের তীব্রতা বজায় রাখা কঠিন হবে না। তবে পেন্টাগনের সামরিক কৌশলবিদরা ভিন্ন কথা বলছেন। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে এই পর্যায়ের উচ্চ-তীব্রতার (High-intensity) যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন অস্ত্রাগার দ্রুত শূন্য হয়ে পড়তে পারে।

চীনা সামরিক বিশেষজ্ঞ ঝাং জুনশে ‘গ্লোবাল টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বড় মাপের প্রস্ততি নিয়ে হামলা শুরু করলেও তাদের প্রতিরক্ষা শিল্প সক্ষমতা বর্তমানে নিম্নমুখী। ফলে গোলাবারুদ দ্রুত ফুরিয়ে গেলে তা পুনরায় উৎপাদন করে ঘাটতি মেটানো তাদের জন্য কঠিন হবে।

ইন্টারসেপ্টর ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সংকট

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর তথ্যমতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর যে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, তাতে সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ইরান থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে যে পরিমাণ ‘ইন্টারসেপ্টর’ মিসাইল ব্যবহৃত হচ্ছে, তা প্রতিস্থাপনের গতির চেয়ে ব্যবহারের গতি অনেক বেশি।

স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো সতর্ক করে বলেছেন, “আমরা এই সরঞ্জামগুলো প্রতিস্থাপনের সক্ষমতার চেয়ে অনেক দ্রুত খরচ করে ফেলছি।” এমনকি ইসরায়েলের হাতেও তাদের শক্তিশালী ‘অ্যারো ৩’ (Arrow 3) ইন্টারসেপ্টরের মজুদ কমে আসছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব ও ডি-ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন

২০২৫ সালের জুলাই মাসে পলিটিকো-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, ইউক্রেনকে সহায়তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অস্ত্রাগারে টান পড়েছে। পেন্টাগনের নীতি-প্রধান এলব্রিজ কোলবি তখন কিছু সুনির্দিষ্ট আকাশ প্রতিরক্ষা মিসাইল এবং প্রিসিশন মিউনিশন (Precision Munitions) সরবরাহ স্থগিত করেছিলেন।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ‘ডি-ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন’ বা শিল্প সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার ফলে তারা জরুরি ভিত্তিতে গোলাবারুদ উৎপাদন বাড়াতে পারছে না। এছাড়া, বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে (যেমন এশিয়া বা ইউরোপ) সম্ভাব্য অন্য কোনো সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে একটি কৌশলগত মজুদ (Strategic Reserve) সবসময় ধরে রাখতে হয়। ইরানের বিরুদ্ধে সবটুকু শক্তি ব্যয় করা ওয়াশিংটনের জন্য বড় ঝুঁকি হতে পারে।

ভবিষ্যৎ ফলাফল: কমে আসতে পারে হামলার তীব্রতা

বিশেষজ্ঞ ঝাং জুনশে মনে করেন, যদি বর্তমান মাত্রায় বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্র খুব বেশিদিন তা ধরে রাখতে পারবে না। কিছুদিন পর হামলার তীব্রতা কমাতে তারা বাধ্য হবে। এই দীর্ঘ সংঘাত কেবল মার্কিন বাহিনীকে চাপের মুখেই ফেলবে না, বরং তাদের দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধপ্রস্তুতির (Combat Readiness) ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


উপসংহার: যদিও রাজনৈতিকভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলছেন, কিন্তু পেন্টাগনের ভেতরে গোলাবারুদের সীমাবদ্ধতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত অস্ত্রের মজুদের এই সীমাবদ্ধতাই কি যুদ্ধের স্থায়িত্ব নির্ধারণ করে দেবে? উত্তরটি এখন সময়ের অপেক্ষায়।