শুক্রবার ৩ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ:
মার্চে রেকর্ড ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স; ২.৬৪ বিলিয়নই এসেছে বেসরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ রোধে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের বড় ঋণ নিজে যাচাই করবে বাংলাদেশ ব্যাংক<gwmw style="display: none; background-color: transparent;"></gwmw> মার্চে দেশের পণ্য রপ্তানি আয়ে ১৯.৭৮ শতাংশ বড় ধস প্রবাসী আয়ে নতুন ইতিহাস: মার্চে এলো রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ডলার<gwmw style="display:none;"></gwmw> সব ব্যাংকে ‘বাংলা কিউআর’ চালুর সময়সীমা জুন পর্যন্ত নির্ধারণ রপ্তানি ভর্তুকি অডিটের জন্য ৭টি সিএমএ ফার্মকে তালিকাভুক্ত করল বাংলাদেশ ব্যাংক সমাজে পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব নারীদের সৃষ্টিশীল শক্তিকে বাধাগ্রস্ত করছে : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী<gwmw style="display:none;"></gwmw> মার্চে রেকর্ড ৩.৬২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স; বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলার<gwmw style="display:none;"></gwmw> ২৪ ঘণ্টায় দেশব্যাপী ৮৭,৭০০ লিটার অবৈধ জ্বালানি তেল জব্দ<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw>

বিশ্বমন্দা ও অভ্যন্তরীণ সংকটে হোঁচট খাচ্ছে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত, আশার আলো দেখাচ্ছে জানুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বিশ্ববাজারে চাহিদার মন্দা এবং দেশের ভেতরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার জেরে কঠিন সময় পার করছে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা দেওয়ায় বাজার স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.৯৩ শতাংশ কমেছে। গত অর্থবছরের এই সময়ে আয় ছিল ২৮.৯৬ বিলিয়ন ডলার, যা এবার কমে দাঁড়িয়েছে ২৮.৪১ বিলিয়ন ডলারে।

জানুয়ারিতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত সাত মাসের সামগ্রিক চিত্রে পতন দেখা গেলেও ডিসেম্বর ও জানুয়ারির পরিসংখ্যান নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪.৪১ বিলিয়ন ডলার। এটি গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় সামান্য (০.৫%) কম হলেও গত ডিসেম্বরের (৩.৯৬ বিলিয়ন ডলার) তুলনায় ১১.২২ শতাংশ বেশি।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “গত দুই মাসের রপ্তানি চিত্র একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্ববাণিজ্যের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে।” তবে তিনি জ্বালানি সংকট ও শ্রমিক অসন্তোষের মতো অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলোকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

তৈরি পোশাক খাতের জয়জয়কার দেশের রপ্তানি খাতের মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক (RMG) খাত আবারও তার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। জুলাই-জানুয়ারি সময়ে এই খাতে আয় ১১.৭৭ শতাংশ বেড়ে ২২.৯৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮১ শতাংশ। পোশাক খাতের এই প্রবৃদ্ধি অন্যান্য খাতের মন্দা ভাব কিছুটা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে।

দেশভিত্তিক চিত্র ও বাজার পরিস্থিতি

  • শীর্ষ গন্তব্য: ৫.২১ বিলিয়ন ডলার আয় নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বরাবরের মতো বাংলাদেশের শীর্ষ রপ্তানি গন্তব্য। এরপরই রয়েছে জার্মানি (২.৮৫ বিলিয়ন ডলার) এবং যুক্তরাজ্য (২.৭৭ বিলিয়ন ডলার)।
  • অন্যান্য খাত: চামড়া, পাট ও হোম টেক্সটাইল খাতে জানুয়ারিতে কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য এবং হিমায়িত মাছের রপ্তানি প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়েনি।

রপ্তানি কমার নেপথ্যে কারণ অর্থনীতিবিদদের মতে, মূলত ইউরোপে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিলাসপণ্যের চাহিদা কমে গেছে। এছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। অভ্যন্তরীণভাবে, ২০২৪ সালের সরকার পরিবর্তনের সময়কার অস্থিরতা, পরিবহন ধর্মঘট এবং গ্যাস-বিদ্যুতের তীব্র সংকট উৎপাদন ও সরবরাহ চেইনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে।

বৈচিত্র্যকরণের তাগিদ পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ড. এম মাসরুর রিয়াজ সতর্ক করে বলেন, “শুধুমাত্র একটি পণ্যের (পোশাক) ওপর নির্ভর করে রপ্তানি বাড়ানো কঠিন।” তিনি মার্কিন বাজারে ট্যারিফ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার ওপর জোর দিয়েছেন।