শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ:
গ্রাম থেকে শহর—প্রতিটি মানুষের কাছে উন্নত ইন্টারনেট ও টেলিকম সেবা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর এসএস পাওয়ারকে ৩২ লাখ ডলারের বৈদেশিক ঋণ ছাড়ের অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক এনবিআরের জাদুঘরে ইতিহাসের সাক্ষী ৪০০ বছরের পুরোনো সনদের অনুলিপি অ্যাকাউন্ট স্থগিতের পর সংশ্লিষ্ট সব হিসাবের তথ্য জানানোর নির্দেশ বিএফআইইউ-এর ক্ষুদ্র উদ্যোগে কর্মসংস্থান তৈরিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও পিকেএসএফ-এর মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকার চুক্তি অর্থবছরের সময়সূচিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তন: কেন এই সিদ্ধান্ত এবং কী মিলবে সুবিধা রেমিট্যান্স প্রবাহ ২১.৬% বেড়ে ৪.৭৪ বিলিয়ন ডলার, মোট রিজার্ভ ৩৭.২৪ বিলিয়ন ছুঁয়েছে বেসরকারি খাতের জন্য সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ, তবে প্রধান চ্যালেঞ্জ জ্বালানি সংকট: বিকেএমইএ সভাপতি দেশে প্রথমবারের মতো কম্পিটেন্সি-বেজড আরবি ভাষার কারিকুলাম প্রণয়ন করছে এনএসডিএ

বাংলাদেশ সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দিলে কার্যকর অংশীদারিত্বে এগিয়ে আসবে নিউজিল্যান্ড: বিজিএমইএ-এর সঙ্গে বৈঠকে হাইকমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি ইকোনমি ঢাকা: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও শিল্প উন্নয়নে কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা প্রদানে নিউজিল্যান্ড সরকার আন্তরিকভাবে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দেশটির অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেভিড পাইন। তবে এর জন্য বাংলাদেশকে সুনির্দিষ্ট খাত উল্লেখ করে রূপরেখা দিতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে উত্তরাস্থ বিজিএমইএ দপ্তরে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে হাইকমিশনার এই মন্তব্য করেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

হাইকমিশনার ডেভিড পাইন বলেন, “বাংলাদেশ সুনির্দিষ্টভাবে কোন কোন ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে, তা বিস্তারিত রূপরেখাসহ জানালে আমরা ইতিবাচকভাবে কার্যকর অংশীদারিত্ব নিয়ে এগিয়ে আসব।”

বৈঠকে নিউজিল্যান্ডের হাইকমিশনারের সহযোগিতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তিনি বলেন, বিজিএমইএ ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সুদূরপ্রসারী রোডম্যাপ ও দূরদর্শী উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। এই লক্ষ্য অর্জনে এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে বিজিএমইএ প্রচলিত বাজারের বাইরে নিউজিল্যান্ডের মতো নতুন এবং সম্ভাবনাময় বাজারগুলোর ওপর বিশেষভাবে জোর দিচ্ছে।

বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যার মধ্যে ৯৪ শতাংশই তৈরি পোশাক। এই বাণিজ্য ব্যবধান কমিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উভয় পক্ষ যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে।

বিজিএমইএ সভাপতি উল্লেখ করেন, পোশাক শিল্পের পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের পাশাপাশি সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি পোশাকের বাইরে অন্যান্য পণ্য রপ্তানি—বিশেষ করে টেক্সটাইল, ফুটওয়্যার, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ফার্নিচার শিল্পের বহুমুখীকরণে কাজ করছে বর্তমান বোর্ড। এসব খাতে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। হাইকমিশনারও এই বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

বৈঠকে তৈরি পোশাক খাতের টেকসই রূপান্তরের অংশ হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হয় এবং বিজিএমইএ সভাপতি এ খাতে নিউজিল্যান্ডের উন্নত কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেন।

আলোচনায় বাংলাদেশের এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) গ্র্যাজুয়েশন পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রস্তুতি সম্পর্কে হাইকমিশনার জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বর্তমান ব্যবসা-বান্ধব সরকার ব্যবসায়ীদের নিয়ে এ লক্ষ্যে কাজ করছেন। তবে এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এফটিএ (মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ৩ বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য নিউজিল্যান্ড সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা ও সমর্থন চেয়েছেন।

এছাড়া নিউজিল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের ব্র্যান্ড ভিজিবিলিটি (দৃশ্যমানতা) বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। বৈশ্বিক অনেক শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড নিউজিল্যান্ডে সরাসরি কাজ না করায়, দেশটির স্থানীয় ক্রেতা ও রিটেইলারদের সঙ্গে কীভাবে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগ স্থাপন করা যায়, সে বিষয়ে বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়।

এর প্রেক্ষিতে হাইকমিশনার ডেভিড পাইন নিউজিল্যান্ডে আয়োজিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এক্সপো ও ট্রেড ফেয়ারে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে কোনো ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল নিউজিল্যান্ডে পাঠানো হলে হাইকমিশন এ ব্যাপারে সকল ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। নিউজিল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশের নিজস্ব ব্র্যান্ড প্রমোট করার প্রস্তাবেও হাইকমিশনার অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দেন।

বৈঠকে বিজিএমইএ এবং নিউজিল্যান্ড হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।