সোমবার ২০ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:
এলডিসি–পরবর্তী প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পোশাকশিল্পে এআই ও প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ নিরাপদ ও ভোগান্তিহীন লেনদেন নিশ্চিতে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক: গভর্নর ভুয়া ওয়েবসাইট ও সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করে ঋণ জালিয়াতি, এডিবি’র সতর্কবার্তা<gwmw style="display:none;"></gwmw> ঢাকায় সাফা আঞ্চলিক কুইজ, পাবলিক স্পিকিং ও প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ২০২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৫ শতাংশ হতে পারে: আইএমএফ<gwmw style="display:none;"></gwmw> আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকা ইপিজেডে শ্রমিক কল্যাণ ও শ্রম ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করলেন আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা: প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম আদালতের আদেশে বিএফআইইউর ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক, সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট বেড়েছে ৭৪%

জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৪৩ খাতে রফতানি প্রণোদনা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : রফতানি বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে ৪৩টি রফতানি খাতে নগদ সহায়তা ও প্রণোদনার মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়িয়েছে সরকার। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক এক সার্কুলারের মাধ্যমে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিদ্যমান এই সুবিধা অব্যাহত থাকবে।

পণ্যভেদে নগদ সহায়তার এই হার ০.৩০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত এলডিসি (LDC) উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ এবং বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিতিশীলতা বিবেচনা করে রফতানিকারকদের জন্য এই ‘সফট ল্যান্ডিং’ বা স্বস্তিদায়ক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

খাতভিত্তিক প্রণোদনার হার

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধান রফতানি খাতসহ বিভিন্ন উদীয়মান শিল্পে সহায়তার পরিমাণ নিম্নরূপ:

  • তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল: নতুন বাজারে স্থানীয় সুতায় তৈরি পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫.৯ শতাংশ হারে প্রণোদনা পাওয়া যাবে। (উল্লেখ্য, গত বছরের জুনের আগে এই হার ছিল ৯.১ শতাংশ)।
  • চামড়াজাত পণ্য: দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত হিসেবে চামড়াজাত পণ্যে ১০ শতাংশ এবং ক্রাস্ট ও ফিনিশড লেদারে ৬ শতাংশ সহায়তা দেওয়া হবে।
  • কৃষি ও পাটজাত পণ্য: প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যে ১০ শতাংশ, বহুমুখী পাটজাত পণ্যে ১০ শতাংশ, সাধারণ পাটজাত পণ্যে ৫ শতাংশ এবং পাট সুতায় ৩ শতাংশ ভর্তুকি থাকছে।
  • অন্যান্য খাত: লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১০ শতাংশ, ফার্নিচারে ৮ শতাংশ, ওষুধের কাঁচামালে ৫ শতাংশ এবং বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল রফতানিতে ৩ শতাংশ সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া হস্তশিল্প ও হিমায়িত চিংড়িসহ অন্যান্য খাতে ১.৫ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত সুবিধা বহাল থাকবে।

কেন এই সিদ্ধান্ত?

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) নিয়ম অনুযায়ী, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পর সরাসরি নগদ রফতানি ভর্তুকি পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনতে হয়। এর আগে ২০২৪ সালে দুই দফায় এই প্রণোদনা কমানো হয়েছিল। তবে বর্তমানে বিশেষ কিছু কারণে সরকার ভর্তুকি পুরোপুরি তুলে নেওয়া থেকে বিরত রয়েছে:

১. বাংলাদেশি পণ্যে সম্ভাব্য মার্কিন ট্যারিফ বা শুল্ক আরোপের ঝুঁকি।

২. স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে রফতানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধ।

৩. রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শিল্প খাতে সৃষ্ট সাময়িক অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠা।

অর্থনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণ

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই সহায়তা বৃদ্ধি করায় বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি রফতানিকারকদের সক্ষমতা টিকে থাকবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে নগদ সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন খরচ কমানো এবং পণ্যের বৈচিত্র্য আনয়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।