সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
পুঁজিবাজারে তরুণদের অংশগ্রহণ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য: বিএসইসি কমিশনার মধ্য অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৩.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, অর্জন ১.৭৪ বিলিয়ন ডলার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ: ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিতরণ ছাড়িয়েছে ১৪,৫১৯ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণ ব্যবসার লাইসেন্সে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বিত সার্কুলার জারি গবেষণা, প্রযুক্তি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের আহ্বান: এইউএসটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলন শুরু ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা ও আগ্রাসন নিয়ে উদ্বেগ, মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষায় জোর দিতে ঢাকায় তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু ১৭ অক্টোবর নতুন সংসদ সদস্যদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রশিক্ষণে সহায়তা দিতে প্রস্তুত ইউএনডিপি আজারবাইজানে সিইসিএ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৪৩ খাতে রফতানি প্রণোদনা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : রফতানি বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে ৪৩টি রফতানি খাতে নগদ সহায়তা ও প্রণোদনার মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়িয়েছে সরকার। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক এক সার্কুলারের মাধ্যমে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিদ্যমান এই সুবিধা অব্যাহত থাকবে।

পণ্যভেদে নগদ সহায়তার এই হার ০.৩০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত এলডিসি (LDC) উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ এবং বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিতিশীলতা বিবেচনা করে রফতানিকারকদের জন্য এই ‘সফট ল্যান্ডিং’ বা স্বস্তিদায়ক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

খাতভিত্তিক প্রণোদনার হার

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধান রফতানি খাতসহ বিভিন্ন উদীয়মান শিল্পে সহায়তার পরিমাণ নিম্নরূপ:

  • তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল: নতুন বাজারে স্থানীয় সুতায় তৈরি পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫.৯ শতাংশ হারে প্রণোদনা পাওয়া যাবে। (উল্লেখ্য, গত বছরের জুনের আগে এই হার ছিল ৯.১ শতাংশ)।
  • চামড়াজাত পণ্য: দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত হিসেবে চামড়াজাত পণ্যে ১০ শতাংশ এবং ক্রাস্ট ও ফিনিশড লেদারে ৬ শতাংশ সহায়তা দেওয়া হবে।
  • কৃষি ও পাটজাত পণ্য: প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যে ১০ শতাংশ, বহুমুখী পাটজাত পণ্যে ১০ শতাংশ, সাধারণ পাটজাত পণ্যে ৫ শতাংশ এবং পাট সুতায় ৩ শতাংশ ভর্তুকি থাকছে।
  • অন্যান্য খাত: লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১০ শতাংশ, ফার্নিচারে ৮ শতাংশ, ওষুধের কাঁচামালে ৫ শতাংশ এবং বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল রফতানিতে ৩ শতাংশ সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া হস্তশিল্প ও হিমায়িত চিংড়িসহ অন্যান্য খাতে ১.৫ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত সুবিধা বহাল থাকবে।

কেন এই সিদ্ধান্ত?

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) নিয়ম অনুযায়ী, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পর সরাসরি নগদ রফতানি ভর্তুকি পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনতে হয়। এর আগে ২০২৪ সালে দুই দফায় এই প্রণোদনা কমানো হয়েছিল। তবে বর্তমানে বিশেষ কিছু কারণে সরকার ভর্তুকি পুরোপুরি তুলে নেওয়া থেকে বিরত রয়েছে:

১. বাংলাদেশি পণ্যে সম্ভাব্য মার্কিন ট্যারিফ বা শুল্ক আরোপের ঝুঁকি।

২. স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে রফতানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধ।

৩. রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শিল্প খাতে সৃষ্ট সাময়িক অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠা।

অর্থনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণ

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই সহায়তা বৃদ্ধি করায় বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি রফতানিকারকদের সক্ষমতা টিকে থাকবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে নগদ সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন খরচ কমানো এবং পণ্যের বৈচিত্র্য আনয়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন