ঢাকা, ০৬ সেপ্টেম্বর (বিডিইকোনমি) — বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী কাল সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) থেকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ক্ষুদ্র আমানতকারীদের জমানো টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অর্থ ছাড় শুরু করতে যাচ্ছে। গত ১ সেপ্টেম্বর শর্তসাপেক্ষে আবেদনের সুযোগ দেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ২৫ হাজারের বেশি আমানতকারী টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করেছেন।
রবিবার বিকেল পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ থাকায় চূড়ান্ত আবেদনকারীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, কতজন ক্ষুদ্র আমানতকারী তাদের অর্থ ফেরত চান এবং তাদের জন্য মোট কত টাকার প্রয়োজন—তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতেই ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই আবেদন সংগ্রহ শুরু করা হয়।
তিনি বলেন, “প্রাথমিক হিসাবে আবেদনকারীর সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে। রবিবারের মধ্যে সংগৃহীত দৈনিক আবেদন ও মোট তহবিলের প্রয়োজনীয়তা চূড়ান্ত হলে প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের মাধ্যমে কাল সোমবার থেকেই গ্রাহকদের মধ্যে টাকা বিতরণ শুরু হবে।”
শাখায় অতিরিক্ত ভিড় না করার অনুরোধ
অর্থ উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাংক শাখাগুলোতে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা বা অতিরিক্ত ভিড় তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আমানতকারীদের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে যাদের এই মুহূর্তে জরুরি নগদ অর্থের প্রয়োজন নেই, তাদের প্রথম দিনই ব্যাংকে উপস্থিত না হয়ে পরবর্তী দিনগুলোতে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, “সব গ্রাহক যদি একই দিনে শাখাগুলোতে ভিড় করেন, তবে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। তাই সবাইকে ধৈর্য ধরে পর্যায়ক্রমে অর্থ উত্তোলনের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।” তবে সব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হবে জানিয়ে গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
আবেদন করলেও সবাই টাকা না-ও তুলতে পারেন
আরিফ হোসেন খান উল্লেখ করেন, আবেদন জমা দিলেও শেষ পর্যন্ত সবাই হয়তো টাকা উত্তোলন করবেন না। কারণ মেয়াদপূর্তির আগে টাকা তোলার ক্ষেত্রে মুনাফা ছাড় সংক্রান্ত বিধিমালা থাকায় কিছু গ্রাহক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন। তাই যারা সরাসরি শাখাগুলোতে উপস্থিত হয়ে টাকা তোলার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন, তাদের হিসাব অনুযায়ী অর্থ ছাড় করা হবে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নিজস্ব সক্ষমতায় কিছুটা সীমাবদ্ধতা থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এবং প্রতিশ্রুত অর্থ পরিশোধে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বস্ত করেন মুখপাত্র।
ঋণ বিতরণে ব্যাংকের প্রস্তুতি থাকলেও গ্রহীতাদের লজিস্টিক সক্ষমতা জরুরি
দেশের সার্বিক ব্যাংকিং কার্যক্রম তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ঋণ বিতরণের পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি ও ফান্ড রয়েছে। তবে বাণিজ্যিক ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর লজিস্টিকস ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি থাকা অপরিহার্য।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, কেবল অর্থ ছাড় করলেই বিনিয়োগ সফল হয় না; এর জন্য প্রয়োজন বিদ্যুৎ, গ্যাস, সড়ক যোগাযোগ ও বন্দর সুবিধার মতো অবকাঠামোগত উপাদান। এই ধরনের লজিস্টিক ঘাটতির কারণে সাময়িকভাবে কিছু ক্ষেত্রে ঋণ বিতরণে বিলম্ব হতে পারে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি তৈরি হলে ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলে তিনি জানান।