ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর (বিডিইকোনমি): শেয়ারবাজারে অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়ম প্রতিরোধে সকল ব্রোকারেজ হাউসের জন্য একটি সমন্বিত ও অত্যন্ত সুরক্ষিত ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নিকুঞ্জে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ভবনে আয়োজিত ‘ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ড’ (আইপিএফ) বা বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল থেকে অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বিএসইসি প্রধান জানান, ডিজিটাল যুগে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ব্যাংক হিসাব এবং সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে (সিসিএ) নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সার্বক্ষণিক বা রিয়েল-টাইম এক্সেস থাকা অত্যন্ত জরুরি।
মাসুদ খান বলেন, “দৈনিকভিত্তিতে ডাটা মেলানোর (রিকনসিলিয়েশন) জন্য একটি একক ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে দ্রুত অর্থ ঘাটতি বা অনিয়ম শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং সরাসরি তদারকির চাপ কমবে।” পাশাপাশি তিনি অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস) আরও উন্নত করার ওপর জোর দেন।
শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে বিএসইসি চেয়ারম্যান প্রকাশ করেন, পাঁচটি সিকিউরিটিজ হাউসের আর্থিক স্বচ্ছতাহীনতার কারণে ১৭,৯৬৭ জন বিনিয়োগকারী মোট ৪৯২ কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এটি একটি গভীর উদ্বেগের বিষয় হলেও বিএসইসি, ডিএসই এবং বিনিয়োগকারী ফোরামের যৌথ প্রচেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত দেওয়ার এই প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়েছে।
পুনরুদ্ধার ও ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে যেসব ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর পাওনা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, তারা পুরো ১০০ শতাংশ অর্থই ফেরত পাবেন। মোট ক্ষতিগ্রস্তদের প্রায় ৯৬ শতাংশই এই ৫ লাখ টাকার নিচের ক্যাটাগরিতে রয়েছেন। আর যাদের দাবি ৫ লাখ টাকার বেশি, তাদের পাওনা পরবর্তী ধাপগুলোতে পরিশোধ করে বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে।
ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, বাজারে শেয়ারের দাম ওঠা-নামা স্বাভাবিক এবং এতে লাভ-ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু মধ্যবর্তী প্রতিষ্ঠান বা ব্রোকারেজ হাউসের অনিয়মের কারণে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা বাজারের ওপর মানুষের আস্থা চরমভাবে বিনষ্ট করে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউস দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে বিনিয়োগকারীদের টাকা ও শেয়ার নিজেদের অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেয় এবং পরে তা ফেরত দিতে পারেনি।
তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর ডিএসই জানায়, বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭,৯৬৭ জন বিনিয়োগকারীর মধ্যে প্রথম দফায় ১৭,৩৩২ জন তাদের পূর্ণ পাওনা (সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত) আইপিএফ তহবিল থেকে ফেরত পাবেন। বাকিদের পাওনা অর্থও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিনিয়োগকারীদের মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ডিএসই চেয়ারম্যান ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে বিএসইসি, ডিএসই, সিডিবিএল ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
আইপিএফ তহবিলের উৎস সম্পর্কে তিনি জানান, ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ট্রেড কমিশন এবং কাস্টমার কনসোলিডেটেড অ্যাকাউন্টের (সিসিএ) সুদের ২৫ শতাংশ অর্থ দিয়ে এই তহবিল গঠিত হয়েছে। ব্রোকারেজ হাউসগুলোর অবদান ছাড়া এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডিএসই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা বক্তব্য রাখেন।