বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
সংশোধিত সাইবার আইনে নাগরিকদের কণ্ঠরোধ না করার আহ্বান—ভয়েস ফর রিফর্মের সংলাপ ব্যাংকিং খাত স্থিতিশীলকরণে সিস্টেমিক ঝুঁকি ও আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে বিআইবিএম-এর কর্মশালা জুলাই-অক্টোবর সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১১.০৪ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম; রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৪১ বিলিয়ন ডলার অস্ট্রেলিয়ার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ, বিএসআরইএর সংবাদ সম্মেলন ২০২৬ সালে মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ মৎস্য খাতের শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার দাবি: বিলস-এফইএস সংলাপ পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা নির্ধারণের দাবি ৩৫ শ্রমিক ফেডারেশনের দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ৬ কার্গো এলএনজি আমদানির সুপারিশ সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির<gwmw style="display:none;"></gwmw> চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার নেমে এসেছে ৩.৮৯ শতাংশে: আইএমইডি

বিনিয়োগ সংস্কারে গতি আনতে ইউএনডিপি, বিডা ও আঙ্কটাডের প্রতিবেদন প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের বিনিয়োগ কাঠামো শক্তিশালী ও সংস্কার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আজ ‘আঙ্কটাড ইনভেস্টমেন্ট পলিসি রিভিউ (আইপিআর) ইমপ্লিমেন্টেশন রিপোর্ট’ প্রকাশ করা হয়েছে।

রাজধানীতে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) যৌথভাবে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগীরা এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন।

বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশের লক্ষ্য অনুষ্ঠানে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী মুহূর্তে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, “ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক বিনিয়োগ বর্তমানে কিছুটা মন্থর থাকলেও আমরা এই সময়টিকে নিজেদের প্রস্তুতি বৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো বিশ্ব পরিস্থিতি অনুকূলে এলে বাংলাদেশ যেন বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানাতে আরও সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে।” তিনি আরও জানান, বিডার পরবর্তী ধাপের মূল লক্ষ্য হবে একটি সমন্বিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে নীতিমালা বাস্তবায়ন, সমন্বয় এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য পূর্বাভাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা।

টেকসই প্রবৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব ইউএনডিপি বাংলাদেশের ডেপুটি আবাসিক প্রতিনিধি সোনালি দয়রত্নে বলেন, শক্তিশালী বিনিয়োগ নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এমন দায়িত্বশীল বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক, যা শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে। বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সময়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এর বিকল্প নেই।

প্রতিবেদনের মূল সুপারিশসমূহ ২০২৬ সালের এই ইমপ্লিমেন্টেশন রিপোর্টে ২০১৩ সালের সুপারিশ বাস্তবায়নের এক দশকের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ডিজিটাল বিনিয়োগ সেবা সম্প্রসারণে বিডার সাফল্যের প্রশংসা করা হলেও পরবর্তী ধাপের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে: ১. জাতীয় বিনিয়োগ নীতিমালা: একটি ব্যাপকভিত্তিক ও সমন্বিত জাতীয় বিনিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন। ২. বিনিয়োগ আইন: বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরও সহজ করতে একটি সমন্বিত বিনিয়োগ আইন প্রবর্তন। ৩. পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন: ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে বিনিয়োগের সমস্ত প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থায় রূপান্তর করা।

অনুষ্ঠানে আঙ্কটাড-এর ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ বিভাগের পরিচালক ন্যান লি কলিন্স-এর একটি ভিডিও বার্তা প্রদর্শিত হয় এবং কিয়োশি আদাচি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ইউএনডিপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়াইস পারারি-এর সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় র‍্যাংগস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহানা রউফ চৌধুরী, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম. মাসরুর রিয়াজ এবং বিল্ড-এর সিইও ফেরদৌস আরা বেগম বক্তব্য রাখেন।

যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তায় এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশ কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘ট্রান্সফরমেটিভ ইকোনমিক পলিসি প্রোগ্রাম (টিইপিপি)’-এর আওতায় এই সংলাপটি আয়োজন করা হয়।