ঢাকা, ১৭ জুন (বিডিইকোনমি ডটনেট) : ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) আয়োজিত ‘প্রজেক্ট শোকেসিং কম্পিটিশন ২০২৬’-এ সেরা প্রকল্পের পুরস্কার অর্জন করেছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের তৈরি রোবোটিকস দল ‘ব্র্যাকু ডুবুরি’ (BRACU Duburi)। দলটির উদ্ভাবিত বিশেষায়িত স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান বা অটোনোমাস আন্ডারওয়াটার ভেহিক্যাল ‘ডুবোমিনি’ (DuboMini) এই সম্মানজনক পুরস্কারটি লাভ করেছে।
সম্প্রতি রাজধানীর রমনায় অবস্থিত আইইবি সদর দপ্তরে এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী কাজের প্রদর্শনী এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে বাস্তব ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে আইইবি এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রকল্প প্রদর্শন করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০১৭ সাল থেকে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের এই রোবোটিকস দলটি বাস্তব জীবনে ব্যবহার উপযোগী উন্নত আন্ডারওয়াটার রোবট বা ডুবোযান তৈরিতে কাজ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের সর্বশেষ সংযোজন এই ‘ডুবোমিনি’। এটি আকারে ছোট একটি রোবটচালিত ডুবোযান, যা পানির নিচে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এবং মানুষের সাহায্য ছাড়াই কাজ করতে পারে।
একজন দক্ষ সাঁতারুর মতো ডুবোমিনি পানির নিচে বিভিন্ন দিকে চলাচল করতে এবং ঘুরতে সক্ষম। ফলে যেকোনো সংকীর্ণ বা জটিল স্থানে এটি খুব সহজেই নিখুঁতভাবে বিভিন্ন মিশন বা অপারেশন পরিচালনা করতে পারে।
সম্পূর্ণ ব্যাটারিচালিত এই ডুবোযানে রয়েছে একটি স্মার্ট পাওয়ার সিস্টেম। এর মোটর এবং মূল মস্তিষ্ক বা অনবোর্ড কম্পিউটারকে আলাদাভাবে সচল রাখার ব্যবস্থা থাকায় কোনো একটি অংশে বিদ্যুৎ সংযোগের সমস্যা হলেও অন্য অংশের কার্যকলাপে তার প্রভাব পড়ে না। এছাড়াও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা ও বিভিন্ন সেন্সরের মাধ্যমে এটি পানির গভীরতা, চলাচলের দিক এবং চারপাশের পরিবেশ বুঝতে পারে। এর নিজস্ব সফটওয়্যার পানির নিচের যেকোনো বাধা শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যা অনেকটা চালকবিহীন স্বয়ংক্রিয় গাড়ির প্রযুক্তির মতো।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের এই বৈশ্বিক মানের প্রযুক্তিগত অর্জন জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকারের একটি প্রতিফলন। বিশেষ করে এসডিজি ৪ (মানসম্মত শিক্ষা), এসডিজি ৯ (শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো) এবং এসডিজি ১৭ (লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারত্ব)-এর বাস্তবায়নে এই উদ্যোগ সরাসরি ভূমিকা রাখছে।