বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ:
বিগত সরকারের ভুল নীতি ও আমদানিনির্ভরতাই বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণ: তিতুমীর ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ আবার ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়ালো ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনর্গঠনে নীতি সহায়তার আবেদনের সময় বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হক ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি গ্রাহকদের আসল আমানত ফেরত দিচ্ছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সেপ্টেম্বরেও অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট মুনাফা ২৬ হাজার কোটি টাকা, ৬ মূল বেতনের সমান বোনাস পাচ্ছেন কর্মকর্তারা উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র: ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিলের সুদহার কমিয়ে ৭% করল বাংলাদেশ ব্যাংক মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড অনুমোদন করল বিএসইসি

হেজ ফান্ডের নজরে ‘ডনরো ডকট্রিন’: ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগের হিড়িক

নিউ ইয়র্ক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে পুঁজি করে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারী ও হেজ ফান্ডগুলো এখন ভেনেজুয়েলামুখী। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ মহলে এই নতুন প্রবণতা ‘ডনরো ডকট্রিন’ (Donroe Doctrine) ট্রেড নামে পরিচিতি পাচ্ছে, যা ১৯শ শতাব্দীর ঐতিহাসিক ‘মনরো ডকট্রিন’-এর একটি আধুনিক ও আক্রমণাত্মক সংস্করণ।

ভেনেজুয়েলায় নতুন সুযোগের সন্ধান

ভেনেজুয়েলার ‘স্ট্রংম্যান’ নিকোলাস মাদুরোর নাটকীয় পতনের পর দেশটিতে বিনিয়োগের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছে হেজ ফান্ডগুলো। অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলার সরকারি বন্ড বা ঋণের বাজারে বড় ধরনের মুনাফা করেছে। এখন তারা সরাসরি কারাকাসে গিয়ে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র খুঁজছে।

বিনিয়োগকারীরা কেবল বন্ডেই সীমাবদ্ধ নেই; তারা সালিশি দাবি (arbitration claims) এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘পিডিভিএসএ’ (PdVSA)-এর বকেয়া পাওনা কেনার মতো অপ্রচলিত বা ‘নিশ’ ইন্সট্রুমেন্টগুলোতেও আগ্রহ দেখাচ্ছে।Image of the Monroe Doctrine map

Shutterstock

বিপুল মুনাফার হাতছানি

গার্নসি-ভিত্তিক ‘কানাইমা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা সেলেস্টিনো আমোর জানান, তার ১৫০ মিলিয়ন ডলারের হেজ ফান্ডটি গত এক বছরে প্রায় ১৫০% মুনাফা করেছে। তিনি বলেন, “এটি কেবল শুরু, সামনে আরও বড় সুযোগ আসছে।” তিনি খুব শীঘ্রই ভেনেজুয়েলা সফর করবেন এবং সেখানকার রিয়েল এস্টেট ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন।

নিউ ইয়র্ক-ভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘সিগনাম গ্লোবাল অ্যাডভাইজার্স’ জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে তারা একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এই সফরে যোগ দিতে হেজ ফান্ড ম্যানেজার, ব্যাংক এবং আবাসন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নজিরবিহীন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু আকর্ষণীয়

উদীয়মান বাজারে বিনিয়োগ সবসময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। এর আগে রাশিয়া, মিয়ানমার বা ইরাকে বিনিয়োগ করতে গিয়ে অনেক বিনিয়োগকারী বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও অবকাঠামোগত বিপর্যয়, দুর্নীতি এবং চীনের মতো বড় ঋণদাতা দেশগুলোর উপস্থিতি ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তবে বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী হওয়ার রসদ পাচ্ছেন আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক সাফল্য থেকে। ট্রাম্পের মিত্র হাভিয়ের মিলেইয়ের বিজয়ের পর সেখানে মার্কিন সহায়তার ফলে বিনিয়োগকারীরা বিপুল লাভবান হয়েছেন।

পরবর্তী ‘ডোমিনো’ কি কিউবা বা কলম্বিয়া?

ট্রাম্পের নজর এখন গ্রিনল্যান্ড, কলম্বিয়া এবং কিউবার দিকেও। ডনরো ডকট্রিনের প্রভাবে গ্রিনল্যান্ডের একটি ছোট ব্যাংকের শেয়ারের দাম সম্প্রতি ৪২% পর্যন্ত বেড়েছে। অনেক বিনিয়োগকারী এখন কিউবাকে পরবর্তী ‘ডোমিনো’ বা পতনের অপেক্ষায় থাকা দেশ হিসেবে দেখছেন।

লন্ডন-ভিত্তিক ‘অল্টানা ওয়েলথ’-এর প্রতিষ্ঠাতা লি রবিনসন বলেন, “মানুষ এখন কিউবার দিকে তাকিয়ে আছে। যদিও কিউবার বাজার ছোট এবং বিনিয়োগ করা কঠিন, তবে সঠিক দামে যেকোনো সম্পদই আকর্ষণীয় হতে পারে।”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ‘পশ্চিম গোলার্ধীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা’ মার্কিন এবং ভেনেজুয়েলান—উভয় পক্ষের জন্যই নতুন যুগের সূচনা করবে বলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।