মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ:
অবকাঠামো ও ইউটিলিটি সুবিধার ধীরগতিতে অর্থনৈতিক অঞ্চলে তৈরি হয়েছে আস্থাহীনতা: বেজিয়া সভাপতি সামাজিক সুরক্ষায় জাকাত: সেন্ট্রাল ফর জাকাত ম্যানেজমেন্টের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন প্রকাশ<gwmw style="display:none;"></gwmw> বাংলা কিউআর লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি শূন্য নির্ধারণ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক ভ্রমণ কোটার বাইরে আন্তর্জাতিক কার্ডে বিদেশে শিক্ষার ফি পরিশোধের অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ লিজিং প্রতিষ্ঠানকে ‘অকার্যকর’ ঘোষণা, রেজল্যুশন কার্যক্রমে প্রশাসক বসালো বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ‘ন্যানো ঋণ’ চালুর উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষায় ২৫ ল্যাপটপ দিল স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বিদেশে বাংলাদেশি খেলাপিদের সম্পদ অনুসন্ধানে ৮ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশ ব্যাংক টাকায় বিদেশি ভ্রমণ প্যাকেজ বিক্রির সুযোগ পেলেন ট্যুর অপারেটররা: বাংলাদেশ ব্যাংক

রেমিট্যান্সে জোয়ার: এপ্রিলে এলো ৩.১২ বিলিয়ন ডলার ১০ মাসে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ২৯.৩৩ বিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : দেশের প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এপ্রিল মাসে প্রবাসীরা ৩.১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবারের চিত্র বেশ উৎসাহব্যঞ্জক। গত বছর এপ্রিলে প্রবাসী আয় এসেছিল ২.৭৫ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে এপ্রিলে আয় বেড়েছে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার বা ১৩.৬ শতাংশ।

১০ মাসে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) দেশে মোট ২৯.৩৩ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এর আগের অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ২৪.৫৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ১০ মাসের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ে ১৯.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধারাবাহিকতা মূলত গত মার্চ মাসের ঐতিহাসিক সাফল্যেরই প্রতিফলন। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে দেশীয় ইতিহাসের সর্বোচ্চ মাসিক রেমিট্যান্স—৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগৃহীত হয়েছিল।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বড় অংকের রেমিট্যান্স আসার অন্য মাসগুলো হলো: মার্চ ২০২৫ (৩.২৯ বিলিয়ন ডলার), ডিসেম্বর ২০২৫ (৩.২২ বিলিয়ন ডলার) এবং জানুয়ারি ২০২৬ (৩.১৭ বিলিয়ন ডলার)।

কেন বাড়ছে প্রবাসী আয়? আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিতিশীলতা বিশ্বব্যাপী বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে প্রভাব ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের উচ্চ চাহিদা থাকায় স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে এর বিনিময় হার বেড়েছে। এর ফলে প্রবাসীরা তাদের উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠালে আগের চেয়ে বেশি টাকা পাচ্ছেন, যা তাদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করছে।

সতর্কতা ও পূর্বাভাস প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ অর্থনীতিকে বড় ধরনের স্বস্তি দিলেও অর্থনীতিবিদরা সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে সরকারকে পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।