রবিবার ৩১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ:
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে দেশজুড়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত আইএমএফের সঙ্গে নতুন ৪০০-৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, বাতিল হচ্ছে চলমান তহবিল আগামী ২০২৬-২৭: বৈশ্বিক অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোর দেওয়ার পরামর্শ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মুনাফাসহ পূর্ণ টাকা ফেরত চান ৬ এনবিএফআইয়ের আমানতকারীরা; শুধু মূলধন ফেরতের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান অর্থনীতিতে গতি আনতে ও ২৫ লাখ কর্মসংস্থানের টার্গেটে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা আস্থা হারানো ইসলামী ব্যাংকের পুনরুদ্ধারের লড়াই এবং ওমর ফারুক খানের নেতৃত্বের গল্প আসন্ন বাজেটে পরোক্ষ করের ফাঁদ: অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়ার আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশ করার দাবি এনডিএফের<gwmw style="display:none;"></gwmw> বাংলাদেশ সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দিলে কার্যকর অংশীদারিত্বে এগিয়ে আসবে নিউজিল্যান্ড: বিজিএমইএ-এর সঙ্গে বৈঠকে হাইকমিশনার

রেমিট্যান্সে জোয়ার: এপ্রিলে এলো ৩.১২ বিলিয়ন ডলার ১০ মাসে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ২৯.৩৩ বিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : দেশের প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এপ্রিল মাসে প্রবাসীরা ৩.১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবারের চিত্র বেশ উৎসাহব্যঞ্জক। গত বছর এপ্রিলে প্রবাসী আয় এসেছিল ২.৭৫ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে এপ্রিলে আয় বেড়েছে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার বা ১৩.৬ শতাংশ।

১০ মাসে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) দেশে মোট ২৯.৩৩ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এর আগের অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ২৪.৫৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ১০ মাসের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ে ১৯.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধারাবাহিকতা মূলত গত মার্চ মাসের ঐতিহাসিক সাফল্যেরই প্রতিফলন। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে দেশীয় ইতিহাসের সর্বোচ্চ মাসিক রেমিট্যান্স—৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগৃহীত হয়েছিল।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বড় অংকের রেমিট্যান্স আসার অন্য মাসগুলো হলো: মার্চ ২০২৫ (৩.২৯ বিলিয়ন ডলার), ডিসেম্বর ২০২৫ (৩.২২ বিলিয়ন ডলার) এবং জানুয়ারি ২০২৬ (৩.১৭ বিলিয়ন ডলার)।

কেন বাড়ছে প্রবাসী আয়? আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিতিশীলতা বিশ্বব্যাপী বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে প্রভাব ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের উচ্চ চাহিদা থাকায় স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে এর বিনিময় হার বেড়েছে। এর ফলে প্রবাসীরা তাদের উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠালে আগের চেয়ে বেশি টাকা পাচ্ছেন, যা তাদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করছে।

সতর্কতা ও পূর্বাভাস প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ অর্থনীতিকে বড় ধরনের স্বস্তি দিলেও অর্থনীতিবিদরা সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে সরকারকে পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।