বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ:
মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড অনুমোদন করল বিএসইসি বিডিঅ্যাপসের সর্বকনিষ্ঠ ডেভেলপার ১১ বছরের যমজ ভাই তানভীর ও তাফসীর বাংলাদেশ-চীন সুসম্পর্ক সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তরুণ লেখকরা: লি শাওপেং ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবিতে গ্রাহকদের বিক্ষোভ বাংলা কিউআরে লেনদেন ১১০ কোটি টাকা ছাড়াল চট্টগ্রামে রবির ‘এলিট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’, যুক্ত হলো ২১ নতুন অংশীদার ক্রিয়েটিভ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন: ৫০ হাজার কর্মসংস্থান ও জিডিপিতে অবদান বৃদ্ধির লক্ষ্য ২২ দিনে প্রবাসী আয় ২১৫ কোটি ডলার ছাড়াল ইনভেস্ট বাংলাদেশ-এর কার্যক্রম শুরু

পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী সৌদি আরব

ঢাকা, ১৫ জুলাই (বিডিইকোনমি) — বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস এবং সামুদ্রিক (মেরিন) খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি সামগ্রিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব।

আজ বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর বিনিয়োগ ভবনে সফররত সৌদি প্রতিনিধি দলের সাথে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে এই আগ্রহের কথা জানানো হয়। বৈঠকে সৌদি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পরিবহন ও লজিস্টিকস বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. রুমাইহ মোহাম্মদ আল-রুমাইহ।

বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-র নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আশিক চৌধুরী। এ সময় পিপিপিএ, বিডা এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও আলোচনায় অংশ নেন।

বৈঠকে সৌদি উপমন্ত্রী বাংলাদেশে বেসরকারীকরণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এটি সৌদি আরবের নিজস্ব কৌশলগত লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সৌদি আরব বিশ্বব্যাপী একটি লজিস্টিকস হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায় এবং এ লক্ষ্যে অগ্রাধিকার খাতগুলোতে শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোকে ‘ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ড. আল-রুমাইহ বাংলাদেশে সৌদি কোম্পানিগুলোর জন্য আরও বেশি সুযোগ অন্বেষণ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সাথে তিনি সৌদি আরবে ব্যবসা করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

আলোচনায় বাংলাদেশে ‘রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল’ (আরএসজিটি)-র কার্যক্রমের বিষয়টিও উঠে আসে। উল্লেখ করা হয় যে, এই টার্মিনালে কর্মরত কর্মীদের ৯৮ শতাংশেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক। আরএসজিটি এ দেশের সামুদ্রিক খাতে উচ্চ প্রযুক্তি ও আধুনিক কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে টার্মিনাল অপারেশনস আরও আধুনিকীকরণের সুযোগ খুঁজছে।

উভয় দেশের প্রতিনিধি দলই পারস্পরিক অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলোতে একসাথে কাজ করার ব্যাপারে একমত প্রকাশ করেন এবং বর্তমান সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, “আমাদের আলোচনায় এমন ক্ষেত্রগুলো উঠে এসেছে যেখানে সৌদি আরবের গভীর আগ্রহ রয়েছে এবং যা বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলোর সাথে ব্যাপকভাবে মিলে যায়—বিশেষ করে কোল্ড স্টোরেজ থেকে শুরু করে বন্দর পর্যন্ত লজিস্টিকস ও সরবরাহ চেইন নেটওয়ার্ক। এছাড়া বাংলাদেশ আর্থিক সেবা খাতেও বিনিয়োগের সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এই সফরের বাইরেও আমরা ইতিমধ্যে একাধিক সৌদি কোম্পানির সাথে যোগাযোগ রাখছি যাতে তারা বাংলাদেশে বিদ্যমান সুযোগগুলো সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে এবং অর্থবহ বিনিয়োগের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়।”