শনিবার ৩০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ:
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে দেশজুড়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত আইএমএফের সঙ্গে নতুন ৪০০-৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, বাতিল হচ্ছে চলমান তহবিল আগামী ২০২৬-২৭: বৈশ্বিক অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোর দেওয়ার পরামর্শ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মুনাফাসহ পূর্ণ টাকা ফেরত চান ৬ এনবিএফআইয়ের আমানতকারীরা; শুধু মূলধন ফেরতের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান অর্থনীতিতে গতি আনতে ও ২৫ লাখ কর্মসংস্থানের টার্গেটে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা আস্থা হারানো ইসলামী ব্যাংকের পুনরুদ্ধারের লড়াই এবং ওমর ফারুক খানের নেতৃত্বের গল্প আসন্ন বাজেটে পরোক্ষ করের ফাঁদ: অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়ার আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশ করার দাবি এনডিএফের<gwmw style="display:none;"></gwmw> বাংলাদেশ সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দিলে কার্যকর অংশীদারিত্বে এগিয়ে আসবে নিউজিল্যান্ড: বিজিএমইএ-এর সঙ্গে বৈঠকে হাইকমিশনার

নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন গৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউ ইয়র্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের স্বীকৃতিতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে । গত ২২ এপ্রিল আলবেনির নিউ ইয়র্ক স্টেট ক্যাপিটলে (New York State Capitol) অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ১৪ এপ্রিলকে ‘বাংলা নববর্ষ দিবস’ (Bangla New Year Day) হিসেবে ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেজুলেশন গৃহীত হয়েছে ।

রেজুলেশন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি গত বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে নিউ ইয়র্ক স্টেট সিনেটের অধিবেশনে এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন সিনেটর লুইস আর সেপুলভেদা (Luis R. Sepúlveda), ন্যাথালিয়া ফার্নান্দেজ এবং টবি অ্যান স্টাভিস্কি । রেজুলেশনে গভর্নর ক্যাথি হোকুলকে (Kathy Hochul) আনুষ্ঠানিকভাবে ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখকে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ‘বাংলা নববর্ষ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানানো হয়

বক্তব্য প্রদানকালে সিনেটর টবি অ্যান স্টাভিস্কি বলেন, বহুসাংস্কৃতিক নিউ ইয়র্কে শিক্ষা, ব্যবসা ও সংস্কৃতিতে বাঙালিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং এই রেজুলেশন সেই অবদানেরই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি । রেজুলেশন পাসের সময় প্রায় ৫০ জন বিশিষ্ট প্রবাসী বাঙালি উপস্থিত থেকে দাঁড়িয়ে এই মুহূর্তকে অভিবাদন জানান

বাঙালি ঐতিহ্যের উদযাপন রেজুলেশনে বাংলা নববর্ষকে একটি অসাম্প্রদায়িক ও বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যার শিকড় নিহিত রয়েছে মুঘল আমলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে । এতে বিশেষভাবে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের (Muktadhara Foundation) তিন দশকের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বজিত সাহার অবদানের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সমাপ্তি রেজুলেশন পাসের পর দুপুর ১টা থেকে ক্যাপিটল হিলে এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয় । সঙ্গীত পরিচালক মহিতোষ তালুকদার তাপসের নেতৃত্বে রবীন্দ্রসংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় । অনুষ্ঠানে শিশুশিল্পী ভাষা সাহার নৃত্য, দুর্গা ক্ষত্রিয়ের সংগীত এবং বাউল শিল্পী শাহীন হোসেনের লোকসংগীত পরিবেশিত হয়

এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইড (NRB Worldwide)-এর সভাপতি বিশ্বজিত সাহা তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে আমরা প্রবাসী বাঙালিদের গণ্ডি ছাড়িয়ে আমেরিকার মূলধারার সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই” । সবশেষে সম্মিলিত কণ্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়

উল্লেখ্য, এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইডের ব্যানারে এই উদযাপন গত ১১ ও ১২ এপ্রিল টাইমস স্কয়ার ও জ্যাকসন হাইটসে শুরু হয়েছিল, যা ২২ এপ্রিল আলবেনিতে রেজুলেশন গ্রহণের মাধ্যমে জাঁকজমকপূর্ণভাবে সমাপ্ত হলো । এই অর্জনকে প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটির জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ।