শনিবার ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
‘লকড অ্যান্ড লোড’ থেকে আকস্মিক বিরতি: ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের রণকৌশল বদলের নেপথ্যে কেউ বিএনপিকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : তারেক রহমান অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচার চালাতে পারবে : বদিউল আলম মজুমদার প্রতিযোগিতামূলক বাজারেও ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৮ বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়েছে জুলাই যোদ্ধাদের ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ সংক্রান্ত সব কর্মকাণ্ডে পূর্ণ ‘দায়মুক্তি’ গণভোটে প্রচারণা সংস্কারের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের অংশ : আসিফ নজরুল প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে সপরিবারে সাক্ষাৎ করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারিক রহমান ব্যাংকিং খাতে তারল্য স্বাভাবিক রাখতে ৯ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক একীভূত হওয়া ৫ ব্যাংকের আমানতকারীরা ২ বছর কোনো মুনাফা পাবেন না: গভর্নর

ডিসেম্বরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি, তবে বার্ষিক হিসেবে পিছিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা : ২০২৫ সালের শেষ মাস ডিসেম্বরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে মাসিক ভিত্তিতে প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩.৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, নভেম্বর ২০২৫-এর তুলনায় ডিসেম্বর মাসে রপ্তানি আয় ১.৯৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মাসিক ভিত্তিতে রপ্তানি খাতের পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয়। তবে বার্ষিক হিসেবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পরিস্থিতি কিছুটা জটিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় এবারের ডিসেম্বরে রপ্তানি আয় কমেছে ১৪.২৫ শতাংশ।

এছাড়া, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৪.৫৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ অর্থ বছরের প্রথমার্ধে রপ্তানি আয় ২.১৯ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।

শীর্ষে তৈরি পোশাক খাত বরাবরের মতো দেশের রপ্তানি আয়ের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত। ডিসেম্বরে এই খাত থেকে আয় হয়েছে ৩.২৩ বিলিয়ন ডলার, যা নভেম্বরের তুলনায় ১.৯৭ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে নিটওয়্যার ও ওভেন পোশাক এই প্রবৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য পণ্য, হিমায়িত মাছ, সবজি, বিশেষায়িত টেক্সটাইল এবং হোম টেক্সটাইল খাতেও ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে। শিল্পজাত পণ্যের মধ্যে কেমিক্যাল, রাবার, চামড়া, বাইসাইকেল এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানিও ছিল স্থিতিশীল।

প্রধান বাজার ও উদীয়মান গন্তব্য ডিসেম্বরে বাংলাদেশি পণ্যের শীর্ষ তিন গন্তব্য ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্য। এই বাজারগুলোতে যথাক্রমে ৭.১৪%, ১৮.০৮% এবং ১৪.৫০% মাসিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

বাজার বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রেও বড় সাফল্য এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) রপ্তানি বেড়েছে ২৫.৩৯ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ায় ২১.৩৩ শতাংশ এবং কানাডায় ৯.১৩ শতাংশ। এটি বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারের পরিধি বাড়ার একটি আশাব্যঞ্জক লক্ষণ।

চ্যালেঞ্জ ও বৈশ্বিক চাপ বার্ষিক আয় হ্রাসের কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ‘পারস্পরিক শুল্ক’কে (Reciprocal Tariffs) দায়ী করছেন। এছাড়া চীনের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।