মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ৮ মাসে জ্বালানিতে অতিরিক্ত খরচ ৪১২ কোটি ডলার: উপদেষ্টা তিতুমীর সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করল সরকার নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা জরুরি: শিক্ষামন্ত্রী পুঁজিবাজারে তরুণদের অংশগ্রহণ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য: বিএসইসি কমিশনার মধ্য অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৩.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, অর্জন ১.৭৪ বিলিয়ন ডলার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ: ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিতরণ ছাড়িয়েছে ১৪,৫১৯ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণ ব্যবসার লাইসেন্সে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বিত সার্কুলার জারি গবেষণা, প্রযুক্তি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের আহ্বান: এইউএসটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলন শুরু ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা ও আগ্রাসন নিয়ে উদ্বেগ, মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

পোশাক শ্রমিকদের সর্বজনীন পেনশনে অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ প্রণোদনা ও বয়সসীমা ৫৫ করার দাবি বিজিএমইএর

ঢাকা, ০৫ সেপ্টেম্বর (বিডিইকোনমি) — সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের মাঝে আরও জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় করতে প্রথম দুই বছরের জন্য বিশেষ সরকারি প্রণোদনা প্রদান এবং পোশাক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে পেনশনের বয়সসীমা ৬০ বছরের পরিবর্তে ৫৫ বছর নির্ধারণের জোর দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ।

শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নুরুল কাদের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) আয়োজিত “সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক আলোচনা সভা”য় এ দাবি জানান সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন এবং সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পোশাক খাতের শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আনা ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে। তবে শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রথম দুই বছর সরকারি প্রণোদনা দেওয়া এবং অবসরকালীন বয়সসীমা ৫৫ বছর করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য শেখ কামরুল হাসান, বিজিএমইএ-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান এবং সহ-সভাপতি মোঃ রেজোয়ান সেলিম।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান জানান, ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নাগরিকরা ব্যাংকের মাধ্যমে চাঁদা দিয়ে ৬০ বছর বয়স থেকে এই পেনশনের সুবিধা পাবেন। গ্রাহকের মৃত্যু হলে মনোনীত ব্যক্তি মুনাফাসহ জমা অর্থ ফেরত পাবেন। এছাড়া অর্থনৈতিক সংকটে চাঁদার পরিমাণ সমন্বয়ের সুযোগও রাখা হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পেনশন কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০২৬’-এর সর্বশেষ সংশোধনী অনুযায়ী ১০০ জনের বেশি শ্রমিক কর্মরত থাকা সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানে সর্বজনীন পেনশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিজিএমইএকে এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন এবং প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজনকে পেনশনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনায় বিজিএমইএ-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, পোশাক খাতের প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে এই স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করা ও পরিচালনা করা চ্যালেঞ্জিং হলেও সরকারের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। অন্যদিকে, সহ-সভাপতি মোঃ রেজোয়ান সেলিম বলেন, স্কিমের আকর্ষণীয় মুনাফার হার বিবেচনা করে শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় বিজিএমইএ সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে।

বিজিএমইএর মহাসচিব মেজর জেনারেল ড. মোঃ সাহেদুল ইসলাম (অবঃ) স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সদস্য, পোশাক কারখানার মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।