ঢাকা, ২৩ জুলাই (বিডিইকোনমি)-রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) কার্যপদ্ধতি আধুনিকীকরণ ও পূর্বের বিক্ষিপ্ত নির্দেশনাগুলোকে একত্রিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘মাস্টার সার্কুলার’ জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে ইডিএফ (EDF) ঋণের পরিশোধের মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট থেকে এ সংক্রান্ত মাস্টার সার্কুলারটি জারি করা হয়। কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার পুনঃঅর্থায়ন নীতি হালনাগাদ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মেয়াদের ব্যাপ্তি ও সুদের নতুন কাঠামো
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, নিয়মিত ইডিএফ ঋণ পরিশোধের স্বাভাবিক মেয়াদ থাকবে ১৮০ দিন। তবে যৌক্তিক কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ব অনুমোদন পেলে এই পরিশোধের সময়সীমা সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।
একই সাথে ঋণের সুদের হার পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে:
- কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এডি ব্যাংক: বাংলাদেশ ব্যাংক অথরাইজড ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে ৬ মাসের বেঞ্চমার্ক সুদের হারের সাথে অতিরিক্ত ০.৫০ শতাংশ যুক্ত করে পুনঃঅর্থায়ন (Refinancing) সুবিধা দেবে।
- এডি ব্যাংক থেকে রপ্তানিকারক: এডি ব্যাংকগুলো রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে ৬ মাসের বেঞ্চমার্ক সুদের হারের চেয়ে সর্বোচ্চ ১.৫০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত সুদ বা মুনাফা নিতে পারবে।
কড়াকড়ি শর্ত ও যোগ্যতার নিয়মাবলী
তহবিলের অপব্যবহার রোধ ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতে ইডিএফ সুবিধার শর্ত কঠোর করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
- অযোগ্যতা: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রপ্তানি আয় দেশে আনতে ব্যর্থ রপ্তানিকারক, অন্য ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে ইডিএফ-এর দায় সমন্বয়কারী গ্রাহক এবং সময়মতো ইডিএফ-এর অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নতুন করে এই সুবিধা পাবে না।
- পুনরায় যোগ্যতা অর্জন: অনাদায়ী রপ্তানি অর্থ দেশে ফেরত আনলে বা ডিসকাউন্ট কমিটির অনুমোদন পেলে সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারকরা পুনরায় ইডিএফ তহবিলের সুবিধা পাবেন।
খাতভিত্তিক ঋণের সীমা ও নতুন বাল্ক সুবিধা
সার্কুলারে শিল্প খাতভেদে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঋণ সীমা সর্বোচ্চ ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ডলারে বহাল রাখা হয়েছে। বাল্ক আমদানির ক্ষেত্রেও খাতভিত্তিক সীমা ১০ লাখ থেকে ২ কোটি ডলার পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকছে।
তবে নতুন সার্কুলারে খাত নির্বিশেষে যেকোনো যোগ্য বাল্ক আমদানির জন্য সর্বোচ্চ ৫ লাখ (৫০০,০০০) ডলারের নতুন ইডিএফ পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা চালু করা হয়েছে। আর যেসব রপ্তানিকারক বাল্ক আমদানি এবং ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি—উভয় সুবিধাই ব্যবহার করেন, তারা সর্বোচ্চ একক কোনো ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের নির্ধারিত ঋণের সীমা ব্যবহার করতে পারবেন।
ব্যবসায়ীদের স্বস্তি:
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। তারা জানান, বিচ্ছিন্ন নির্দেশনাগুলোকে একটি মাস্টার সার্কুলারের আওতায় আনায় নিয়মকানুন মেনে চলা সহজ হবে। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও রপ্তানিকারক উভয়ের জন্যই ইডিএফ সংক্রান্ত কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও সহজ হবে।