বুধবার ১ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে জল্পনা নয়, ধৈর্য ধরার আহ্বান গভর্নরের<gwmw style="display:none;"></gwmw> অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নীতিতে অটল থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংক<gwmw style="display:none;"></gwmw> আইসিএবি’র নতুন প্রেসিডেন্ট সাব্বীর, ৪ ভাইস-প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ১ জুলাই থেকে ‘বাংলা কিউআর’ কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক: ক্যাশলেস অর্থনীতির লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ<gwmw style="display:none;"></gwmw> জ্বালানি খাতের বরাদ্দ বৈষম্য দূর ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর তাগিদ সানেমের<gwmw style="display:none;"></gwmw> প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রণালয়গুলোতে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড বসানো হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী ব্যাংকগুলোকে জরুরি তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকা: অর্থমন্ত্রী কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি এসএমই খাত: শিল্পমন্ত্রী ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নীতিতে অটল থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা, ৩০ জুন (বিডিইকোনমি) — দেশের বাহ্যিক অর্থনৈতিক খাতকে বৈশ্বিক ধাক্কা থেকে রক্ষা করা, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে নমনীয় ও বাজারভিত্তিক বিনিময় হার (এক্সচেঞ্জ রেট) নীতিতে দৃঢ়ভাবে অটল থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের নতুন মুদ্রানীতি (মনিটারি পলিসি স্টেটমেন্ট – এমপিএস) ঘোষণার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্তম্ভ।

রাজধানীর মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর এই মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে নতুন মুদ্রানীতির মূল নির্দেশনাসমূহ আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান, যেখানে মুদ্রানীতির মূল সূচক ও লক্ষ্যমাত্রাগুলো তুলে ধরা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক উল্লেখ করেছে যে, সংকোচনমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সর্বোচ্চ ১১.৭ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালের মে মাসে ৯.৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে তা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি এখনও উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান মূল্যস্ফীতি চাপের একটি বড় অংশই কাঠামোগত সমস্যা, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং উচ্চ আমদানি ব্যয়ের কারণে ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে কৃত্রিমভাবে বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করলে তা জাতীয় শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর আরও চাপ বাড়াবে।

এর পরিবর্তে, সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক কাঠামোর অধীনে প্রকৃত বিনিময় হার চাহিদা ও সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে গতিশীলভাবে নির্ধারিত হতে থাকবে। এর ফলে হুন্ডির মতো অবৈধ চ্যানেলগুলো সংকুচিত হবে, প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ ত্বরান্বিত হবে এবং ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তৈরি হওয়া প্রবৃদ্ধির মন্থরতা এবং ঋণসংকট কাটিয়ে উঠতে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান একই সাথে কৃষি, শিল্প উৎপাদন এবং সিএমএসএমই (CMSME) সহ উৎপাদনশীল খাতগুলোর জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল বিশেষ প্রণোদনা উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন।

আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান খাতগুলোকে চাঙ্গা করার মধ্যে একটি সুক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি হার (পলিসি রেপো রেট) ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার পাশাপাশি এই বাজারভিত্তিক মুদ্রা বিনিময় কাঠামো কার্যকর রাখা হবে।