শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ:
ব্যাংক খাতের সংস্কারে অব্যাহত সহায়তার আশ্বাস এডিবি প্রতিনিধিদলের; গভর্নরের সাথে বৈঠক বন্ধ ও লোকসানি সরকারি কারখানা চালুতে ১৪টি বড় প্রতিষ্ঠানের ৮৬টি বিনিয়োগ প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাথে ভিসা প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আকতার হোসেনের চুক্তি বাতিল রপ্তানি বহুমুখীকরণে বিশ্বমানের হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় সমতা ও অধিকার নিশ্চিতের তাগিদ: বিল্‌স-এর কর্মশালায় ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২৬’ চূড়ান্তকরণ জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৩২ শতাংশে: খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে বড় স্বস্তি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ফার্মেসি ও লাইফ সায়েন্সেস ক্যারিয়ার ফেয়ার অনুষ্ঠিত: ২৫টি শীর্ষ স্থানীয় প্রতিষ্ঠান অংশ নেয় বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো এলপিপি

বন্ধ ও লোকসানি সরকারি কারখানা চালুতে ১৪টি বড় প্রতিষ্ঠানের ৮৬টি বিনিয়োগ প্রস্তাব

ঢাকা, ১৩ আগস্ট (বিডিইকোনমি)- দেশের বন্ধ ও লোকসানি সরকারি কারখানাগুলো পুনরায় চালু করে কার্যকর করার উদ্যোগে অভূতপূর্ব সাড়া দিয়েছে বেসরকারি খাত। দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৪টি শিল্পগ্রুপ ও প্রতিষ্ঠান এসব কারখানা চালু করতে সরকারের কাছে মোট ৮৬টি বিনিয়োগ প্রস্তাব জমা দিয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) প্রস্তাবগুলো নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবকারী শিল্পগ্রুপগুলো কৃষি ও কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) ও মোটরসাইকেল সংযোজন, ডেটা সেন্টার ও ডিজিটাল অবকাঠামো, খাদ্য ও পানীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে গত জুন মাসে উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রথম দফায় বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের জন্য ৪৪টি সরকারি কারখানা বাছাই করে বিডা। এর মধ্যে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) ১৩টি, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) ১২টি, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডিষ্টিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ১০টি, বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) ৫টি এবং বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (বিএসইসি) ৪টি কারখানা রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে বিডা আগ্রহের অভিব্যক্তি (ইওআই) আহ্বান করলে ৪টি একক প্রতিষ্ঠান ও ১০টি বড় শিল্পগ্রুপ ৮০টি প্রস্তাব জমা দেয়, যা পরবর্তীতে বেড়ে ৮৬টিতে দাঁড়ায়।

একই কারখানায় একাধিক শিল্পগ্রুপের প্রতিযোগিতা:

বিনিয়োগ প্রস্তাব বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু কারখানার মালিকানা বা দীর্ঘমেয়াদি ইজারা পাওয়ার জন্য শীর্ষ কোম্পানিগুলোর মধ্যে জোর প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। যেমন—ঠাকুরগাঁও সুগার মিলসে বিনিয়োগের জন্য প্যারাগন গ্রুপ এবং কাজী ফার্মস গ্রুপ—উভয়েই প্রস্তাব জমা দিয়েছে। অন্যদিকে সেতাবগঞ্জ সুগার মিলসের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে নাবিল গ্রুপ, ব্র্যাক সিড অ্যান্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজ এবং মিল্ক ভিটা।

গত ৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে অলাভজনক সরকারি কারখানাগুলো দ্রুত চালুর নির্দেশ দিলে এ প্রক্রিয়ায় গতি আসে। পরবর্তীতে ৮ জুলাই শিল্প মন্ত্রণালয়ে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক সভায় সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলোর মতামত গ্রহণ করা হয় এবং বিনিয়োগের রূপরেখা চূরান্ত করতে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে শিল্প সচিব আবদুন নাসের খান বলেন, “আমরা বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছি। গত মাসে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন ২০২৬’ পাস হওয়ার পর, নতুন আইনের অধীনে নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। নীতিমালা চূড়ান্ত হলেই দীর্ঘমেয়াদি ইজারা, মুনাফা ভাগাভাগি বা অন্যান্য চুক্তির মাধ্যমে কারখানা হস্তান্তরের মডেল চূড়ান্ত করা হবে।”

বড় শিল্পগ্রুপগুলোর বিনিয়োগ পরিকল্পনা:

  • প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ: ১৬টি সরকারি কারখানার জন্য একক ও যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি ৩৫টি প্রস্তাব জমা দিয়েছে তারা। অটোমোবাইল অ্যাসেম্বলি, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, কৃষি-শিল্প, নির্মাণসামগ্রী, পেপার মিল, সৌরবিদ্যুৎ, জুতা, আসবাবপত্র ও পোল্ট্রি খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। প্রাণ-আরএফএল ইতোমধ্যে পিপিপি মডেলে রাজশাহী টেক্সটাইল মিল ও রাজশাহী জুট মিল চালু করে ৩,৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং সম্প্রতি খুলনার স্টার জুট মিলস ও সিরাজগঞ্জের ন্যাশনাল জুট মিলসের ইজারা পেয়েছে।
  • আকিজ রিসোর্স গ্রুপ: তাদের দুটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১২টি প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এর মধ্যে আকিজ এগ্রো অ্যান্ড লাইভস্টক তিনটি চিনি মিলে কৃষি, সৌরবিদ্যুৎ ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনে ৩টি এবং আকিজ ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ইভি, আইটি ও পাওয়ার সেক্টরে ৯টি প্রস্তাব দিয়েছে।
  • টি কে গ্রুপ: অটোমোবাইল পার্টস, ইভি অ্যাসেম্বলি, চামড়ার জুতা ও সোলার প্যানেল গ্লাস তৈরির জন্য ১০টি প্রস্তাব দিয়েছে।
  • ব্র্যাক সিড অ্যান্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজ: সেতাবগঞ্জ সুগার মিলস দীর্ঘমেয়াদি ইজারা নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন, ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ, জৈব সার উৎপাদন, বীজ-আলু উৎপাদন, কোল্ড স্টোরেজ ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৯টি প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
  • কাজী ফার্মস গ্রুপ: খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস, ঢাকা লেদার, প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় সুগার মিলের জমি অর্জন বা ইজারার মাধ্যমে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কর্ন স্টার্চ তৈরির জন্য ৪টি প্রস্তাব দিয়েছে।
  • ট্রান্সকম গ্রুপ: ৪টি সরকারি সংস্থার আওতাধীন বন্ধ কারখানায় নতুন বিনিয়োগের জন্য ৩টি প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
  • নাবিল গ্রুপ: রাজশাহী ও সেতাবগঞ্জ সুগার মিলসে সুগার বিট চাষ, সমন্বিত কৃষি ও প্রক্রিয়াজাতকরণের উদ্দেশ্যে ২টি প্রস্তাব দিয়েছে।
  • প্যারাগন গ্রুপ: চিনি মিলের জমিতে কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, পশুখাদ্য তৈরি, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ধান/ভুট্টা চাষের প্রস্তাব দিয়েছে।
  • অন্যান্য প্রতিষ্ঠান: স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, মিল্ক ভিটা, গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (জিইউকে), অ্যাক্টিভ ফাইন কেমিক্যালস, এক্সিলেন্ট সিরামিকস এবং বেঙ্গল মিট প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি নিজ নিজ খাতে একাধিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে।

বেসরকারি খাতের এমন সাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে বিডার নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর তিন সপ্তাহের মধ্যে খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে এবং ২৮ জুলাই বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে হস্তান্তর সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ নীতিমালার অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।