নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সুবাতাস বইছে। মে মাসের প্রথম ১১ দিনেই প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহে ব্যাপক উল্লম্ফন ঘটেছে। চলতি মাসের এই অল্প সময়ে দেশে এসেছে ১.৪৪ বিলিয়ন (১৪৪ কোটি) মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৬.৪ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসের প্রথম ১১ দিনে প্রবাসীরা ১.৪৪ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন। গত বছরের (২০২৫) একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৯২২ মিলিয়ন (৯২ কোটি ২০ লাখ) ডলার। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কেবল ১১ মে এক দিনেই দেশে এসেছে ২৫১ মিলিয়ন ডলার। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের প্রতি প্রবাসী কর্মীদের ক্রমবর্ধমান আস্থাই এই প্রবৃদ্ধির মূল কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থবছরে রেকর্ড গড়ার পথে বাংলাদেশ
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১১ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩০.৭৭ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ২৫.৪৫ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসেবে অর্থবছরের ব্যবধানে এখন পর্যন্ত ২০.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
প্রবৃদ্ধির নেপথ্যে যে কারণগুলো
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদরা এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি মূল কারণ চিহ্নিত করেছেন:
- হুন্ডি বিরোধী কঠোর অবস্থান: অবৈধ হুন্ডি চ্যানেলের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির ফলে প্রবাসীরা বৈধ পথে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন।
- আর্থিক প্রণোদনা: সরকারিভাবে ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনার পাশাপাশি বেশ কিছু বেসরকারি ব্যাংক অতিরিক্ত বোনাস প্রদান করছে, যা রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করছে।
- ডিজিটাল সহজলভ্যতা: মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) এবং রিয়েল-টাইম ব্যাংক ট্রান্সফার সুবিধার কারণে এখন প্রবাসীরা মুহূর্তেই দেশে টাকা পাঠাতে পারছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি আমাদের প্রবাসী কর্মীদের সহনশীলতা এবং বর্তমান নীতিগত পদক্ষেপের কার্যকারিতারই প্রতিফলন।”
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার এই প্রবাহ দেশের ব্যালেন্স অব পেমেন্ট (BoP) বা বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে স্বস্তি আনবে এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মে মাসের এই গতি জুন পর্যন্ত বজায় থাকলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরটি বাংলাদেশের ইতিহাসে রেমিট্যান্স আহরণে একটি নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবে।