নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: অর্থনৈতিক অস্থিরতার মুখে টিকে থাকতে ভ্যাট কমানো, নতুন গ্যাস সংযোগ চালু এবং সংস্থাগুলোর ‘আমলাতান্ত্রিক হয়রানি’ বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি (বিআরওএ)।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে আজ রবিবার (১০ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে ১১ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
সহনীয় ভ্যাট ও ট্যাক্সের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, বর্তমানে রেস্তোরাঁ খাত বহুমুখী করের চাপে জর্জরিত। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনার পর আগে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হলেও, বর্তমানে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, উৎসে কর এবং অন্যান্য করের কারণে ব্যবসায়ীরা হিমশিম খাচ্ছেন।
মালিক সমিতি আসন্ন বাজেটে ক্যান্টিন ও ক্যাটারিং সার্ভিসের জন্য ফ্ল্যাট ৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ এবং উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। ইমরান হাসান বলেন, “উচ্চ কর হার ব্যবসায়ীদের ভ্যাট ফাঁকি দিতে উৎসাহিত করে। কর হার কমিয়ে করের আওতা বাড়ালে সরকারের রাজস্ব উল্টো বৃদ্ধি পাবে।”
জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য
ব্যবসায়ী নেতারা জানান, কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি এই শিল্প। তার ওপর বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি অপারেশনাল খরচ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
মহাসচিব বলেন, “দ্রব্যমূল্যের অনিয়ন্ত্রিত ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে রেস্তোরাঁ খাতে।” এলপিজি গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় আমদানি বাড়ানো এবং বন্ধ থাকা পাইপলাইন গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালুর দাবি জানান তারা।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানি বন্ধের আহ্বান
রেস্তোরাঁ মালিকরা রাজউক, ফায়ার সার্ভিস এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের মতো সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতা’ তৈরির অভিযোগ তুলেছেন। একটি রেস্তোরাঁ খুলতে বর্তমানে ১০ থেকে ১২টি ভিন্ন ভিন্ন দপ্তরের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়, যা শেষ করতে প্রায় ছয় মাস সময় লেগে যায়। এই দীর্ঘসূত্রিতা ও হয়রানি বন্ধে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুর দাবি জানানো হয়।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো:
- ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স সেবা পুনরায় চালু করা।
- খরচ কমাতে মাংস (গরু) আমদানির অনুমতি প্রদান।
- খাতে বড় করপোরেটদের আগ্রাসন বন্ধ করা।
- অদক্ষ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণে সরকারি কর্মসূচি চালু করা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয় যে, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ রেস্তোরাঁ এখনো নিবন্ধনের বাইরে। ফলে তারা যেমন করের আওতায় আসছে না, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধিও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সেক্টরটিকে সুশৃঙ্খল করতে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সমিতি।