শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ:
বিগত সরকারের ভুল নীতি ও আমদানিনির্ভরতাই বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণ: তিতুমীর ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ আবার ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়ালো ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনর্গঠনে নীতি সহায়তার আবেদনের সময় বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হক ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি গ্রাহকদের আসল আমানত ফেরত দিচ্ছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সেপ্টেম্বরেও অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট মুনাফা ২৬ হাজার কোটি টাকা, ৬ মূল বেতনের সমান বোনাস পাচ্ছেন কর্মকর্তারা উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র: ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিলের সুদহার কমিয়ে ৭% করল বাংলাদেশ ব্যাংক মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড অনুমোদন করল বিএসইসি

বাংলাদেশ আমদানি বন্ধ রাখায় বিপাকে ভারত, সীমান্তে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ২ রুপিতে!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:

বাংলাদেশের আমদানিকারকরা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন ভারতীয় পেঁয়াজ রপ্তানিকারকরা। পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার সীমান্তে প্রায় ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বাংলাদেশ আমদানি স্থগিত রাখায় এই পেঁয়াজগুলো নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

সীমান্তে পেঁয়াজের দাম তলানিতে

পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার মাহাদিপুর-সোনামসজিদ সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য প্রবেশ করে। সরেজমিনে দেখা গেছে, এই সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ রুপিতে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ টাকা ৭৩ পয়সা)। ৫০ কেজির এক একটি বস্তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০ রুপিতে।

বিপরীতে, মালদার স্থানীয় বাজারে একই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২২ রুপিতে। শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে মাহাদিপুরে এই অস্বাভাবিক দরপতন চলছে।

প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে মজুত, এখন লোকসান

ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিকারকরা অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশের আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের মৌখিক প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তারা বিপুল পরিমাণে পেঁয়াজ মজুত করেছিলেন। কিন্তু এখন বাংলাদেশি আমদানিকারকরা সেই পেঁয়াজ নিচ্ছেন না।

মালদহের পেঁয়াজ রপ্তানিকারক সিরাজুল শেখ বলেন,

“বছরের এই সময়ে সাধারণত বাংলাদেশে পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকে। এই দিক বিবেচনা করে আমাদের ব্যবসায়ীদের মধ্যে কেউ ৫০ ট্রাক, কেউ ৭০ ট্রাক, আবার কেউ তার চেয়েও বেশি পেঁয়াজ মজুত করেছে।”

তিনি আরও জানান, এসব পেঁয়াজ ইন্দোর এবং নাসিক (মহারাষ্ট্র রাজ্য) থেকে আনা হয়েছে। এখন তা পচছে এবং বাধ্য হয়ে ২, ৬, ৮ বা ১০ রুপিতে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে পেঁয়াজের দাম তো উঠবেই না, পরিবহনের তেল খরচও উঠবে না।

আরেক রপ্তানিকারী জাকিরুল ইসলাম বলেন, দু’মাস আগেও তিনি প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে পাঠাতেন। এখন তার ট্রাকগুলোর পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে এবং নামমাত্র মূল্যে সেগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

ক্ষতির মুখে হাজারো ব্যবসায়ী

মালদহের পেঁয়াজ রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশি আমদানিকারক-ব্যবসায়ীরা একটি নোটিশ জারি করে। সেই নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত কৃষ্টি সম্প্রসারণ বিভাগ সাময়িকভাবে ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানিতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। এরপর থেকেই এই অবস্থা চলছে।

পশ্চিমবঙ্গের রপ্তানিকারকদের সংস্থা ওয়েস্ট বেঙ্গল এক্সপোর্টার্স কো-অর্ডিনেশন কমিটির মহাসচিব উজ্জ্বল সাহা ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন:

“বাংলাদেশ পেঁয়াজ রপ্তানি খাতে ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ করেছে এবং রপ্তানি বন্ধ থাকায় সীমান্তে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২ রুপিতে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এটা একটি অকল্পনীয় লোকসান। যদি শিগগিরই সীমান্ত খুলে দেওয়া না হয়, তাহলে অনেক রপ্তানিকারক সর্বস্বান্ত হয়ে যাবেন।”