শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ডে খরচ ইনবাউন্ড লেনদেনের চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি: বাংলাদেশ ব্যাংক বৈশ্বিক ও জ্বালানি সংকটের মুখেও উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে লড়াই করে যাচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত স্পেনের বার্সেলোনা টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬-এ বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন যশোর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন, এটি অনন্য নজির: প্রতিমন্ত্রী অমিত<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ৮ মাসে জ্বালানিতে অতিরিক্ত খরচ ৪১২ কোটি ডলার: উপদেষ্টা তিতুমীর সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করল সরকার নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা জরুরি: শিক্ষামন্ত্রী পুঁজিবাজারে তরুণদের অংশগ্রহণ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য: বিএসইসি কমিশনার মধ্য অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৩.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, অর্জন ১.৭৪ বিলিয়ন ডলার

ব্যাংকিং খাতে এনপিএল তথ্য গোপন: তদন্ত করবে আইএমএফ

ঢাকা, ৫ নভেম্বর (ইউএনবি): বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বছরের পর বছর ধরে বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণের (এনপিএল) তথ্য গোপন করার ঘটনা তদন্ত করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

বৈশ্বিক এই ঋণদাতা সংস্থাটি এখন জানতে চাইছে, কারা এই বিপুল পরিমাণ তথ্য গোপন করার জন্য দায়ী। তারা প্রশ্ন তুলেছে, এই গোপনীয়তা কি কোনো পরিকল্পিত ‘কারসাজি’ নাকি ব্যাংক পরিদর্শনে **চরম ‘অবহেলা’**র ফল। সম্প্রতি সরকার পরিবর্তনের পর যখন খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র ধীরে ধীরে সামনে আসছে, তখন আইএমএফ জানতে চায় কীভাবে এত বড় একটি আর্থিক সত্য এত দিন ধরে জনগণের কাছে গোপন থাকল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আইএমএফের ব্যাখ্যা তলব

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বৈঠকে এই বিষয়টিই ছিল আলোচনার কেন্দ্রে।

বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, আইএমএফ প্রতিনিধিদল স্পষ্টতই জানতে চেয়েছে যে, কীভাবে এবং কেন এনপিএল সংক্রান্ত তথ্য গোপন করা হয়েছে এবং কেন বারবার ব্যাংক পরিদর্শনে তা ধরা পড়েনি।

গত কয়েক বছর ধরে প্রকৃত চিত্র গোপন করে ব্যাংকিং খাতকে ‘সুস্থ’ দেখানোর একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর সেই গোপনীয়তার পর্দা উঠে গেছে। ফলস্বরূপ, খেলাপি ঋণের প্রকৃত পরিমাণ এখন প্রকাশিত হয়েছে, যা একটি বিশাল উল্লম্ফন দেখাচ্ছে।

এনপিএল ৬.৫ লাখ কোটি টাকারও বেশি

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় এনপিএল-এর পরিমাণ নিয়মিতভাবে কম দেখানো হলেও, সম্প্রতি প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৬.৫ লাখ কোটি টাকারও বেশি হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার ৪০ শতাংশের সীমাও ছাড়িয়ে গেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতেও এনপিএল-এর হার ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

ঋণ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ ব্যর্থতা ও পদ্ধতিগত ত্রুটি

এই পরিস্থিতি আইএমএফ-এর ৪.৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ কর্মসূচির একটি প্রধান শর্তের স্পষ্ট লঙ্ঘন। শর্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার কথা ছিল। লক্ষ্যমাত্রা ও বর্তমান বাস্তবতার মধ্যে ব্যাপক ফারাক দেখা দেওয়ায় আইএমএফ তাদের নজরদারি বাড়িয়েছে।

আইএমএফ বিশেষত নিম্নোক্ত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছে:

  • ঋণ খেলাপি হিসেবে শ্রেণীকরণ করার ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভূমিকা।
  • অফেরতযোগ্য ঋণকে খেলাপি হিসেবে শ্রেণীকরণ এড়াতে আইনি ফাঁক বা ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা ছিল কিনা।
  • ব্যাংক পরিদর্শন ব্যবস্থায় এমন মৌলিক ত্রুটি কীভাবে এত দিন ধরে বিদ্যমান ছিল।
  • পরিদর্শকরা অবহেলা করেছিলেন নাকি ইচ্ছাকৃত পদ্ধতিগত কারসাজি ছিল।