ঢাকা, ২১ অক্টোবর (বিডি ইকোনমি): দেশে বিদেশিদের কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ডের মাধ্যমে খরচের পরিমাণ তার চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে দুই প্রান্তিক ব্যয়ের এই বড় ব্যবধানের তথ্য উঠে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত আগস্ট মাসে বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৮৭ কোটি টাকা, যা জুলাইয়ের ৯৮৫ কোটি টাকার তুলনায় সামান্য বেশি। অন্যদিকে, আগস্টে বিদেশিরা বাংলাদেশে এসে তাদের কার্ড ব্যবহার করে মোট খরচ করেছেন প্রায় ২৪৯ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী জুলাই মাসের ২৩৪ কোটি টাকার তুলনায় ৬.২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
দুটি ব্যয়ের মধ্যবর্তী এই বিশাল ব্যবধান দেশে আন্তর্জাতিক কার্ডভিত্তিক খরচের শক্তিশালী অবস্থান ও বহির্গামী ব্যয়ের ধারাবাহিক প্রবণতাকে নির্দেশ করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উপাত্ত অনুযায়ী, আগস্ট মাসে বিদেশে অনুষ্ঠিত মোট ৯৮৭ কোটি টাকার ব্যয়ের মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ৫০৪.৬০ কোটি টাকা, ডেবিট কার্ডে ৪২২.১০ কোটি টাকা এবং প্রিপেইড কার্ডে ৬০.১০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।
বিদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের পছন্দের শীর্ষে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে মোট বৈদেশিক ক্রেডিট কার্ড লেনদেনের ১৭.১৬ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তালিকার পরবর্তী স্থানগুলোতে রয়েছে থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ভারত ও সিঙ্গাপুর।
ডেবিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে ১৪.১৯ শতাংশ শেয়ার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাজ্য। অন্যদিকে, প্রিপেইড কার্ড ব্যবহারের শীর্ষে রয়েছে ভারত, যেখানে মোট প্রিপেইড লেনদেনের ১৮.৭১ শতাংশ হয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ড লেনদেনে মন্দা বিদেশে খরচ বাড়লেও অভ্যন্তরীণ বাজারে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের হার হ্রাস পেয়েছে। গত আগস্টে দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন ৫.৪৪ শতাংশ কমে ৪,০৮৯.৩০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে, যা জুলাই মাসে ছিল ৪,৩২৪.৮০ কোটি টাকা।
দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডে মোট লেনদেনের সিংহভাগ বা ৪৮.১৪ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোতে। এ ছাড়া রিটেইল আউটলেটে ১২.৬৭ শতাংশ, ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ১০.৮০ শতাংশ, ফার্মেসি ও ওষুধ কেনাকাটায় ৬.৯৪ শতাংশ এবং নগদ টাকা উত্তোলনে ৬.৪৩ শতাংশ লেনদেন রেকর্ড করা হয়েছে।
তবে সার্বিক লেনদেন কমলেও কিছু নির্দিষ্ট খাতে কেনাকাটার হার বেড়েছে। যেমন, রিটেইল আউটলেটে কেনাকাটা ৪৭৭.৯০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৫১৮.৩০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে ইউটিলিটি বিল, ওষুধ, পোশাক ও পরিবহন খাতে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বেড়েছে।
পাঁচ বছরে কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ৯৬ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিগত পাঁচ বছরে দেশে প্লাস্টিক মানি বা কার্ড ব্যবহারের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর শেষে দেশে ২.৪২ কোটি ডেবিট কার্ড, ১৭.৬৩ লাখ ক্রেডিট কার্ড এবং ১০.২৭ লাখ প্রিপেইড কার্ড চালু ছিল।
২০২৬ সালের আগস্ট শেষে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে প্রায় ৪ কোটি ডেবিট কার্ড, ২৮.০৫ লাখ ক্রেডিট কার্ড এবং ৯২.৭১ লাখ প্রিপেইড কার্ড। সব মিলিয়ে পাঁচ বছরের ব্যবধানে কার্ডের সংখ্যা ৯৬ শতাংশ এবং লেনদেনের পরিমাণ ১০৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে প্রিপেইড কার্ডের প্রবৃদ্ধির হার ছিল সবচেয়ে দ্রুত।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগস্ট মাস শেষে দেশে ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে অনুমোদিত মোট ঋণসীমা দাঁড়িয়েছে ৪৩,১০৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে বকেয়া ঋণের পরিমাণ ১৪,৪৮২ কোটি টাকা।
লেনদেনের এই সামগ্রিক প্রবণতার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, নগদ টাকার ব্যবহার নিরুৎসাহিত করে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন প্রসারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। কার্ডভিত্তিক সেবার পাশাপাশি দ্রুত পরিশোধে ক্যাশলেস বাংলা কিউআর (Bangla QR) ব্যবস্থার পরিধিও ব্যাপকভাবে প্রসারিত করা হচ্ছে।