ঢাকা, ১০ আগস্ট (বিডিইকোনমি)– দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক সুরক্ষায় জাকাত ফান্ডের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম)। সংস্থাটির সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের (৪র্থ ত্রৈমাসিক) বিতরণ প্রতিবেদনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকায়ন এবং জরুরি মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সংস্থাটি বিভিন্ন মেয়াদের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
জরুরি মানবিক সহায়তা (ইনসানিয়াত): জরুরি মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এপ্রিল থেকে জুন ২০২৬ প্রান্তিকে ১,৫৪৪টি পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছে, যার ফলে এই সুবিধার মোট সুবিধাভোগী দাঁড়িয়েছে ১৬,০৯৫ জনে। এছাড়া সুদমুক্ত ঋণ বা ‘করজে হাসানা’ প্রদান কর্মসূচির আওতায় নতুন করে ৩৪ জন এবং শিক্ষা সহায়তায় ১৪ জন অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুস্থদের সহায়তা নিশ্চিতকরণসহ সামাজিক পুনর্বাসনে এ কর্মসূচি কাজ করে যাচ্ছে।
জীবিকায়ন উন্নয়ন কর্মসূচি (জীবিকা): দুস্থ পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করতে ‘জীবিকা’ প্রকল্পের আওতায় এ প্রান্তিকে নতুন ১টি ‘জীবিকা উন্নয়ন কেন্দ্র’ (জেইউকে) যুক্ত হয়ে মোট চলমান কেন্দ্র দাঁড়িয়েছে ৭৬টিতে। আলোচ্য তিন মাসে ৫০০টি নতুন পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যার মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ৭৮,৮৯৩টি পরিবারকে জীবিকায়ন সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। একই সময়ে নতুন ১৫ জন উদ্যোক্তা তৈরি করা হয়েছে এবং ২৪৯ জনকে আয়বর্ধক কর্মসূচির ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
ফেরদৌসী হেলথকেয়ার প্রোগ্রাম: মা ও শিশু স্বাস্থ্যের সেবায় সিজেডএম-এর ফেরদৌসী হেলথকেয়ার প্রোগ্রামের আওতায় মোট ১১৪টি কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এ প্রান্তিকে ১,৩৫৭ জন গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মাতাকে সেবা প্রদান করা হয়েছে এবং ১,০০৫ জন দীর্ঘমেয়াদী রোগীকে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। এ নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৮ লাখের বেশি (৮,০০,২২৬ জন)। এছাড়া হৃদরোগে আক্রান্ত ৪ জন শিশু এবং কিডনি ডায়ালিসিসের ৩ জন রোগীকে বিশেষ চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা ও স্কলারশিপ প্রোগ্রাম (গুলবাগিচা ও জিনিয়াস): সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় যুক্ত রাখতে ‘গুলবাগিচা’ প্রকল্পের অধীনে ৩,০৮১ জন শিক্ষার্থীকে নতুন স্কুল পোশাক এবং ৪,৪৬১ জনকে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরতদের জন্য পরিচালিত ‘জিনিয়াস স্কলারশিপ’ প্রোগ্রামে বর্তমানে ৪,২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাচ্ছেন, যার মধ্যে এ প্রান্তিকে নতুন করে ২,১৬২ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তির আওতায় আনা হয়েছে।
কারিগরি প্রশিক্ষণ (নৈপুণ্য বিকাশ): কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘নৈপুণ্য বিকাশ’ প্রোগ্রামের আওতায় বর্তমানে ৫৩টি কেন্দ্র কাজ করছে। আলোচ্য সময়ে ৬৪ জন শিক্ষার্থী কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন এবং পোশাক তৈরি (ড্রেস মেকিং) খাতসহ বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের চাকরির সংস্থান করা হয়েছে।
সিজেডএম তাদের সচেতনতামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে সোশাল মিডিয়া, গণমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রকাশনার মাধ্যমে জাকাতভিত্তিক সমাজ গঠনে সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।