ঢাকা, ৯ আগস্ট (বিডিইকোনমি)– কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার জলবায়ুঝুঁকিপূর্ণ চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের মাধ্যমে ২৫টি ল্যাপটপ দিয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ ও ফ্রেন্ডশিপের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য ছিল চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক শিক্ষা অব্যাহত রাখা, ডিজিটাল দক্ষতা বাড়ানো এবং বিশ্বের সঙ্গে তাদের সংযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি করা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ল্যাপটপগুলো যথাযথভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।
কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার চরাঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী বন্যা, নদীভাঙন এবং সীমিত অবকাঠামোর কারণে নিয়মিত পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে এসব এলাকায় শিক্ষার হার কমে যাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ ও ফ্রেন্ডশিপের যৌথ কর্মসূচির আওতায় গত এক বছরে পাঁচটি বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানানো হয়। বিদ্যালয়গুলোতে স্টারলিংক সংযোগ চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট ও ডিজিটাল শিক্ষার সুবিধা পাচ্ছে।
এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ও পরীক্ষার ফলাফলেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং ঝরে পড়ার হার কমতে শুরু করেছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও চলছে।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এনামুল হক বলেন, গত এক বছরে ফ্রেন্ডশিপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। পাঁচটি বিদ্যালয়ে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ চালু হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ও পরীক্ষার ফলাফলে উন্নতি হয়েছে।
তিনি বলেন, “ল্যাপটপগুলো শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে সাহায্য করবে বলে আমি মনে করি।”
ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান বলেন, দুর্গম চরাঞ্চলের একটি শিশুর হাতে ল্যাপটপ তুলে দেওয়ার অর্থ শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধা দেওয়া নয়; বরং তার সামনে জ্ঞানের একটি নতুন দ্বার উন্মোচন করা।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী চরাঞ্চলের গণ্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ পায়। পাশাপাশি বৃহত্তর পরিসরে স্বপ্ন দেখার ক্ষেত্রে শিশুটির আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং তার মধ্যে সম্ভাবনা ও নতুন আশার আলো জাগে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ ও ফ্রেন্ডশিপ ২০১৬ সাল থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সহায়তায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করছে।
এই অংশীদারিত্বের আওতায় মানসম্মত শিক্ষা, ডিজিটাল শিক্ষা, ক্যারিয়ার গাইডেন্স, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, পরিবেশ ও ভাষা শিক্ষা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে এরই মধ্যে বহু শিক্ষার্থীকে আধুনিক ও ডিজিটাল বিশ্বের উপযোগী হয়ে উঠতে সহায়তা করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।