সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ:
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কাটতে লাগবে অন্তত ২ বছর: অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী প্রাইভেট বিনিয়োগে ভাটা: ব্যাংকিং খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ছাড়াল ৪ লাখ কোটি টাকা ফল আমদানিতে এলসি মার্জিন শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক ইউরোপীয় বাজারে মন্দা: চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৬.৪৩% জুলাই-আগস্টের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল ১২ কিস্তিতে পরিশোধের সুবিধা চায় পোশাক খাত ব্যাংক খাতের সংস্কারে অব্যাহত সহায়তার আশ্বাস এডিবি প্রতিনিধিদলের; গভর্নরের সাথে বৈঠক বন্ধ ও লোকসানি সরকারি কারখানা চালুতে ১৪টি বড় প্রতিষ্ঠানের ৮৬টি বিনিয়োগ প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাথে ভিসা প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আকতার হোসেনের চুক্তি বাতিল

বৈশ্বিক ধাক্কা সত্ত্বেও অর্থবছর ২৬-এ রপ্তানি আয় ৪৮ বিলিয়ন ডলারে স্থিতিশীল, জুনে ২৫.৯১ শতাংশ রেকর্ড প্রবৃদ্ধি

ঢাকা, ২ জুলাই (বিডিইকোনমি) — তীব্র বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি খাত অভাবনীয় স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। বিদায়ী এই অর্থবছরে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় প্রায় ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছে স্থিতিশীল রয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর সাময়িক তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৮.০০ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৪৮.২৮ বিলিয়ন ডলার। সেই তুলনায় এবারের অর্জনটিকে একটি সামান্য বা আংশিক সমন্বয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি, সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং পশ্চিমা প্রধান বাজারগুলোতে ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়ার মতো বড় বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আগের বছরের কাছাকাছি রপ্তানি আয় ধরে রাখার এই সক্ষমতা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের অন্তর্নিহিত শক্তিকে প্রমাণ করে।

এদিকে, সাম্প্রতিক মন্দাভাব কাটিয়ে একক মাস হিসেবে ২০২৬ সালের জুন মাসে পণ্য রপ্তানিতে বছরভিত্তিক (YoY) রেকর্ড ২৫.৯১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে যেখানে রপ্তানি আয় ছিল ৩.৩৩ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ ৪.২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে।

দেশের রপ্তানি অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক (RMG) খাত এককভাবে ২০২৬ সালের জুনে ২১.৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ৩.৩৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এর মধ্যে ওভেন পোশাক খাতে ২৪.০২ শতাংশ এবং নিটওয়্যার রপ্তানিতে ১৯.৪৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাত থেকে মোট ৩৮,৭০১.১৫ মিলিয়ন (৩৮.৭ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার আয় হয়েছে।

অন্যান্য প্রধান খাতগুলোর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাত থেকে এই অর্থবছরে ১.২৩ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে, যা বার্ষিক ৭.০৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। এছাড়া পাট ও পাটজাত পণ্য খাতে বছরজুড়ে ৭.৭৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়ে আয় দাঁড়িয়েছে ৮৮৩.৬৯ মিলিয়ন ডলারে; যার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে জুন মাসের একক ৭৬.৬০ শতাংশের বিশাল প্রবৃদ্ধি।

হোম টেক্সটাইল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যে অর্থবছরে যথাক্রমে ৬.৫২ শতাংশ এবং ২১.৭৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি পণ্যের রপ্তানি আয় জুন মাসে এককভাবে ৪৬.৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

রপ্তানি বাজারের দিক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ইউএসএ) বাংলাদেশের একক বৃহত্তম বাজার হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে ৪.০৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সহ রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৯.০৪ বিলিয়ন ডলারে। ইতিবাচক ক্রেতা চাহিদার কারণে জার্মানি এবং যুক্তরাজ্য যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে বহাল রয়েছে।

সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশের শীর্ষ ২০টি রপ্তানি গন্তব্যের সবকটিতেই বছরভিত্তিক ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। এটি বিশ্ববাজারে সামগ্রিক চাহিদা পুনরুদ্ধার এবং বাংলাদেশের বাজার বহুমুখীকরণের একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত।

ইপিবি কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, জুন মাসের এই জোরালো গতি নতুন অর্থবছর ২০২৬-২৭-এ দেশের সামগ্রিক রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য একটি অত্যন্ত মজবুত ভিত্তি তৈরি করবে।