ঢাকা, ১৪ জুন (bdeconomy.net) – দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’-এর পরিচালনা পর্ষদ (বোর্ড অব ডিরেক্টরস) ভেঙে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও আর্থিক খাতে জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে রোববার (১৪ জুন) এই নাটকীয় ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বর্তমান চেয়ারম্যানসহ পর্ষদের সব সদস্যের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।
সুশাসন নিশ্চিত করতে কঠোর হস্তক্ষেপ
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী পর্ষদ বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা, আমানতকারীদের আমানত সুরক্ষিত রাখা এবং কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে জনস্বার্থে এই অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকের হাতে পুরো নিয়ন্ত্রণ
ব্যাংকটির দৈনিক পরিচালনা ও তদারকি কার্যক্রমে যেন কোনো স্থবিরতা না আসে, সেজন্য ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদের সমস্ত ক্ষমতা ও দায়িত্ব এক শীর্ষ কর্মকর্তার হাতে ন্যস্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
- দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা: বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন-কে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
- আইনি ক্ষমতা: এখন থেকে তিনি পরিচালনা পর্ষদের সব ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন, যা কার্যত প্রশাসক নিয়োগের শামিল।
গভীর তারল্য সংকট ও পর্ষদ বিতর্ক
সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ পর্ষদে ধারাবাহিক পরিবর্তন, প্রশাসনিক বিতর্ক এবং গ্রাহকদের নগদ টাকা উত্তোলন নিয়ে মাঠপর্যায়ে তীব্র উদ্বেগ দেখা দেয়। এর ফলে ব্যাংকটি বড় ধরনের তারল্য সংকটে পড়ে এবং সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আজ রোববার সকালেই ইসলামী ব্যাংককে ২,৫০০ কোটি টাকার বিশেষ জরুরি তারল্য সহায়তা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর বিকেলে ব্যাংকটির শীর্ষ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসে এবং গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এর কয়েক ঘণ্টার মাথায় পুরো পর্ষদ বাতিলের এই বড় ঘোষণা এলো।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় সাধারণ আমানতকারীদের উদ্বেগ কমবে এবং ব্যাংকটির নিয়মিত লেনদেন ও আর্থিক শৃঙ্খলা দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।