শনিবার ২৭ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ:
১ জুলাই থেকে ‘বাংলা কিউআর’ কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক: ক্যাশলেস অর্থনীতির লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ<gwmw style="display:none;"></gwmw> জ্বালানি খাতের বরাদ্দ বৈষম্য দূর ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর তাগিদ সানেমের<gwmw style="display:none;"></gwmw> প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রণালয়গুলোতে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড বসানো হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী ব্যাংকগুলোকে জরুরি তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকা: অর্থমন্ত্রী কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি এসএমই খাত: শিল্পমন্ত্রী ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক আইএমএফের নতুন ঋণের শর্ত: ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিলের দাবি বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় উদ্যোগ: প্রবাসীদের জন্য ‘কনভার্টিবল টাকা অ্যাকাউন্ট’ চালু, ওএমইউ ও অফশোর ব্যাংকিংয়ে গতি আনার লক্ষ্য পাঁচটি দেউলিয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্র আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকার পানি দূষণ রোধে বিশ্বব্যাংকের ৩৭ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন

ওয়াশিংটন: ঢাকার অভ্যন্তরীণ ও চারপাশের নদী ও খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং পানি দূষণ রোধে ৩৭ কোটি (৩৭০ মিলিয়ন) ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। আজ ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পর্ষদের সভায় এই অর্থায়ন অনুমোদন করা হয়।

‘মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ প্রোগ্রামের আওতায় এই অর্থ ব্যয় করা হবে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার স্যানিটেশন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবার মান উন্নত করা। এর ফলে উপকৃত হবে প্রায় ১০ লাখের বেশি মানুষ। যার মধ্যে ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ উন্নত স্যানিটেশন এবং ৫ লাখ মানুষ উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা পাবে।

কেন এই প্রকল্প?

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা দেশের মোট কর্মসংস্থানের অর্ধেক এবং মোট জিডিপির এক-তৃতীয়াংশ জোগান দেয়। তবে অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়নের ফলে এখানকার নদী ও খালগুলো মারাত্মক দূষণের শিকার। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে:

  • ঢাকার মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার আওতায় আছেন।
  • প্রায় ৮০ শতাংশেরও বেশি অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি জলাশয়ে গিয়ে পড়ছে।
  • ঢাকার অর্ধেকের বেশি খাল এখন হয় নিখোঁজ, না হয় বর্জ্যে ভরাট হয়ে গেছে।
  • প্রায় ৭,০০০ শিল্প কারখানা থেকে প্রতিদিন ২৪০ কোটি লিটার অপরিশোধিত তরল বর্জ্য নদীতে মিশছে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে বলেন, “জলাশয়গুলো ঢাকার কোটি মানুষের প্রাণরেখা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা ঢাকার নদী ও খালগুলোকে পুনরায় জীবিত করার জন্য একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি করতে চাই।”

প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ

১. ডিজিটাল মনিটরিং: ঢাকার নদীগুলোর জন্য একটি ‘ওয়াটার কোয়ালিটি ইনডেক্স’ বা পানি মান সূচক তৈরি করা হবে এবং রিয়েল-টাইম বা তাৎক্ষণিক দূষণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হবে। ২. নদী পুনরুদ্ধার: ঢাকার প্রধান চারটি নদীর জন্য সমন্বিত পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। ৩. বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ: শিল্প বর্জ্য শোধনে এবং পানির পুনঃব্যবহার বাড়াতে বেসরকারি খাতের দক্ষতা ও মূলধন কাজে লাগানো হবে। ৪. ফলাফল ভিত্তিক পদ্ধতি: ঢাকা ওয়াসা এবং সিটি কর্পোরেশনগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধিতে একটি ফলাফল ভিত্তিক (Results-based) সিস্টেম প্রবর্তন করা হবে।

দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য

এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ এলাকাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র স্পেশালিস্ট হর্ষ গোয়েল জানান, এটি বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহনশীলতা এজেন্ডার একটি অংশ। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে মোট ৪,৬০০ কোটি ডলারেরও বেশি আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৪৩টি প্রকল্পে তাদের প্রায় ১,২০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ চলমান রয়েছে।