রবিবার ৩১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ:
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে দেশজুড়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত আইএমএফের সঙ্গে নতুন ৪০০-৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, বাতিল হচ্ছে চলমান তহবিল আগামী ২০২৬-২৭: বৈশ্বিক অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোর দেওয়ার পরামর্শ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মুনাফাসহ পূর্ণ টাকা ফেরত চান ৬ এনবিএফআইয়ের আমানতকারীরা; শুধু মূলধন ফেরতের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান অর্থনীতিতে গতি আনতে ও ২৫ লাখ কর্মসংস্থানের টার্গেটে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা আস্থা হারানো ইসলামী ব্যাংকের পুনরুদ্ধারের লড়াই এবং ওমর ফারুক খানের নেতৃত্বের গল্প আসন্ন বাজেটে পরোক্ষ করের ফাঁদ: অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়ার আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশ করার দাবি এনডিএফের<gwmw style="display:none;"></gwmw> বাংলাদেশ সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দিলে কার্যকর অংশীদারিত্বে এগিয়ে আসবে নিউজিল্যান্ড: বিজিএমইএ-এর সঙ্গে বৈঠকে হাইকমিশনার

টিআইবির ‘দিব্যদৃষ্টি’ নেই, তারা সব দেখতে পায় না: অর্থ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সরকারের বাস্তব সংস্কার কার্যক্রম দেখতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, “টিআইবির লোকজনের তো দিব্যদৃষ্টি নেই বা ভালো দৃষ্টিও নেই, তারা সবকিছু চোখে দেখতে পায় না।”

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

টিআইবির সমালোচনার জবাব

সম্প্রতি টিআইবি মন্তব্য করেছিল যে, বর্তমান সরকার সংস্কারের বিষয়ে যতটা দৃশ্যমান প্রচার করছে, বাস্তবে ততটা কাজ হচ্ছে না। এর প্রতিক্রিয়ায় অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “শুধু আইন বা সংস্কারের ফ্রেমওয়ার্ক দেখলেই হবে না। আমরা কতগুলো প্রসেস সহজ করেছি, তা কি তারা দেখেছে? আগে ওয়েজ স্কিমের জন্য পারমিশন লাগত, আমরা তা অটোমেটিক করে দিয়েছি। না দেখার ইচ্ছা থাকলে অনেক কিছুই এড়িয়ে যাওয়া যায়।”

টিআইবিকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, “আমি কিন্তু তাদের বদনাম করছি না, তবে আমি বলি—যেগুলো ফান্ডামেন্টাল জিনিস, সেগুলো একটু দেখুন। আমি কোনোদিন আলতু-ফালতু কথা বলে কাউকে সমালোচনা করিনি, সবসময় মৌলিক বিষয়ের ওপর কথা বলেছি।”

অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিকে একটি সন্তোষজনক ও স্থিতিশীল অবস্থানে রেখে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর নড়বড়ে অবস্থায় থাকা অর্থনীতিকে আমরা দেড় বছরে ঠিক করেছি। সামনে যে সরকার দায়িত্ব নেবে, তাদের যেন কোনো বড় সংকটে পড়তে না হয়, সেই পথ আমরা তৈরি করে দিচ্ছি।”

ঋণ ও পরিশোধের হিসাব

বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণের সমালোচনা প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, সরকার শুধু ঋণ নেয়নি, বরং রেকর্ড পরিমাণ ঋণ পরিশোধও করেছে। তিনি জানান:

  • ইতোমধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।
  • অপ্রয়োজনীয় ও ব্যয়বহুল মেগা প্রকল্প (যেমন টানেল বা বিলাসবহুল অবকাঠামো) পরিহার করা হয়েছে।
  • কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ, যার জন্য এসএমই খাতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পরিশেষে তিনি বলেন, “সংস্কার কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়, এটি একটি প্রক্রিয়া যা সময়সাপেক্ষ। আমরা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও পুরনো আইনের জট ছাড়ানোর চেষ্টা করছি। যারা বাইরে থেকে দেখছেন, তাদের উচিত এই গভীর পরিবর্তনগুলো খেয়াল করা।”