বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
সংশোধিত সাইবার আইনে নাগরিকদের কণ্ঠরোধ না করার আহ্বান—ভয়েস ফর রিফর্মের সংলাপ ব্যাংকিং খাত স্থিতিশীলকরণে সিস্টেমিক ঝুঁকি ও আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে বিআইবিএম-এর কর্মশালা জুলাই-অক্টোবর সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১১.০৪ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম; রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৪১ বিলিয়ন ডলার অস্ট্রেলিয়ার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ, বিএসআরইএর সংবাদ সম্মেলন ২০২৬ সালে মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ মৎস্য খাতের শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার দাবি: বিলস-এফইএস সংলাপ পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা নির্ধারণের দাবি ৩৫ শ্রমিক ফেডারেশনের দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ৬ কার্গো এলএনজি আমদানির সুপারিশ সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির<gwmw style="display:none;"></gwmw> চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার নেমে এসেছে ৩.৮৯ শতাংশে: আইএমইডি

গ্রিনল্যান্ড কিনতে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর ট্রাম্পের ১০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা

ওয়েস্ট পাম বিচ, ফ্লোরিডা – ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড ক্রয়ের প্রচেষ্টায় চাপ সৃষ্টি করতে আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্তের ফলে গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে হওয়া ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তিটি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

শুল্ক আরোপ ও সময়সীমা

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। যেসব দেশ এই শুল্কের আওতায় পড়বে সেগুলো হলো— ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস এবং ফিনল্যান্ড।

প্রেসিডেন্ট আরও সতর্ক করেছেন যে, যদি ১ জুনের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড ক্রয়ের বিষয়ে কোনো সমঝোতা না হয়, তবে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। গ্রিনল্যান্ডের “সম্পূর্ণ ক্রয়ের” চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক বহাল থাকবে বলে তিনি জানান।

কারণ ও প্রেক্ষাপট

গ্রিনল্যান্ডে সম্প্রতি ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, চীন ও রাশিয়ার প্রভাব মোকাবিলায় গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। ট্রাম্পের মতে, ইউরোপীয় দেশগুলো গ্রিনল্যান্ড নিয়ে “বিপজ্জনক খেলা” খেলছে যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

ইউরোপের কড়া প্রতিক্রিয়া

ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পের এই হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ইইউ-র শীর্ষ দুই কর্মকর্তা উরসুলা ফন ডার লিয়েন এবং আন্তোনিও কস্তা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, “এই ধরনের শুল্ক ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং একটি বিপজ্জনক সংঘাতের দিকে নিয়ে যাবে।”

অন্যান্য বিশ্ব নেতাদের প্রতিক্রিয়া:

  • যুক্তরাজ্য: প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপ করা “সম্পূর্ণ ভুল”।
  • ফ্রান্স: প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, কোনো ধরনের হুমকি বা ভয় দেখিয়ে ফ্রান্সের ওপর প্রভাব বিস্তার করা যাবে না।
  • সুইডেন: প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন সাফ জানিয়েছেন, তারা কোনো ব্ল্যাকমেইলের কাছে নতি স্বীকার করবেন না।
  • গ্রিনল্যান্ড: গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন পুনরায় স্পষ্ট করেছেন যে, গ্রিনল্যান্ডের জনগণ যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ চায় না।

অনিশ্চয়তায় বাণিজ্য চুক্তি

গত বছর সম্পাদিত ইইউ-ইউএস বাণিজ্য চুক্তির ফলে মার্কিন রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে, এই চুক্তির বাস্তবায়ন আপাতত স্থগিত রাখা উচিত। বিশ্লেষকদের মতে, একই ব্লকের কিছু দেশের ওপর শুল্ক আরোপ এবং অন্যদের ছাড় দেওয়ার বিষয়টি কার্যকর করা অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত জটিল হবে।