মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন: নতুন সরকারের অগ্রাধিকার এবং আসন্ন জাতীয় বাজেটের জন্য কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে । অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলীয় হাইকমিশন সহায়তা প্রদান করে ।

সংলাপে বক্তারা বলেন, নির্বাচনের পর নতুন সরকারের সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পূর্বাভাসযোগ্যতা, ব্যবসা করার সহজীকরণ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি । এসব বিষয় আসন্ন জাতীয় বাজেটেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন ।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান । তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে বাংলাদেশের পক্ষে উচ্চমূল্যের শিল্প খাতে প্রবেশ করা কঠিন হবে ।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম. মাসরুর রিয়াজ বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি উন্মোচন এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সময়োপযোগী সংস্কারের ওপর জোর দেন ।
ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের সিএফও জিনিয়া হক বলেন, বিনিয়োগকারীরা গতি, স্বচ্ছতা এবং সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দেন । টেকসই বিনিয়োগের জন্য নীতিসমূহকে ব্যক্তি-নির্ভর না হয়ে প্রতিষ্ঠান-নির্ভর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি ।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (ইউরোচ্যাম)-এর চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং নির্ভরযোগ্য রপ্তানি সুবিধার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ছাড়া বিনিয়োগকারীরা দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন । তিনি শুল্ক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন ।

এমসিসিআই-এর মহাসচিব ও সিইও ফারুক আহমেদ স্বাগত বক্তব্যে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন । এছাড়া মারগুব কবির অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের হেড অব চেম্বার্স মারগুব কবির বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে সেকেলে আইন সংস্কারের তাগিদ দেন ।
সংলাপটি সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বিত সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদী সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপের মধ্য দিয়ে শেষ হয় । অংশীজনরা এসব আলোচনাকে কার্যকর নীতিমালায় রূপান্তরের আহ্বান জানান ।