বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:
জুলাইয়ের প্রথম ২১ দিনে প্রবাসী আয় ২৩.৫% বেড়ে ২০৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার ২০২৬ সালের প্রথম ৬ মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি ০.৬৩% কমে ১৯.৩৪ বিলিয়ন ডলার: ইপিবি আমানতকারীরাই ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিক: বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পোশাক রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে ৬ দফা রোডম্যাপ; শিল্পে জ্বালানি নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার: মাহদী আমিন হস্তশিল্প খাতের উন্নয়নে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও বাংলাক্রাফটের সমঝোতা স্মারক সই ‘হেয়ারকাট’ বাতিল ও মুনাফাসহ আমানত ফেরতের রোডম্যাপ চান সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা ব্যাসেল-৩: ব্যাংকের ‘এনএসএফআর’ রিপোর্টিং কাঠামো সংশোধন করল বাংলাদেশ ব্যাংক এলডিসি–পরবর্তী প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পোশাকশিল্পে এআই ও প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ নিরাপদ ও ভোগান্তিহীন লেনদেন নিশ্চিতে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক: গভর্নর

স্থিতিশীল বৈদেশিক মুদ্রার বাজার, টাকার মান কমানোর কোনো চাপ নেই: বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার (ফরেক্স) বাজার বর্তমানে স্থিতিশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। টাকার মান কমানোর বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক চাপ নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কিছু গণমাধ্যমে টাকার মান কমার সম্ভাবনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রয়েছে।

তারল্য ও রিজার্ভের শক্তিশালী অবস্থান: গত ৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৯ বিলিয়ন ডলারে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষে যা ছিল ২.৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তারল্য বেড়েছে ১.৬ বিলিয়ন ডলার।

একইভাবে ব্যাংকগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার নগদ জমার পরিমাণও বেড়েছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারিতে যেখানে নগদ ডলারের পরিমাণ ছিল ৪৭.৬ মিলিয়ন, তা ৬ এপ্রিল নাগাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ মিলিয়ন ডলারে।

বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৪.৩৫ বিলিয়ন ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, বাজার থেকে ডলার কিনে তারল্য বজায় রাখলে এই রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেত। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ব্যাংকগুলোর নেট ওপেন পজিশন (NOP) সাধারণ সীমার (৬০০–৭০০ মিলিয়ন ডলার) চেয়ে অনেক বেশি (প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার) থাকা সত্ত্বেও গত এক মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে কোনো ডলার ক্রয় করেনি।

রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রবাহ: বৈদেশিক মুদ্রার এই স্থিতিশীলতার প্রধান চালিকাশক্তি হলো প্রবাসীদের পাঠানো রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশে ৩.৭৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা এ যাবৎকালের যেকোনো একক মাসে সর্বোচ্চ। এই ধারা এপ্রিলেও অব্যাহত রয়েছে; মাসের প্রথম ছয় দিনেই (১–৬ এপ্রিল) ৬৬০ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০.৫ শতাংশ বেশি।

আমদানি ও ঋণ পরিশোধ: আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়া নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। গত এক মাসে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (এসিইউ) ১.৩৭ বিলিয়ন ডলারের বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি সরকারি বৈদেশিক ঋণের প্রায় ১৮০ মিলিয়ন ডলার কিস্তি পরিশোধ করা হয়েছে।

বাজার পরিস্থিতি: সার্বিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে এবং ডলারের ওপর কোনো কৃত্রিম চাপ নেই। শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বাজারের ওপর আস্থার কারণে বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে।