সোমবার ৮ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ:
১১ মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩.৪১%: ইইউ-ইউএসএতে মন্দা হলেও কানাডায় প্রবৃদ্ধি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগ দাবি ব্যাংক খাতের সংস্কারে স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে: তথ্যমন্ত্রী বন্ধ কারখানা সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের, সুদ মাত্র ৭ শতাংশ অর্থবছরে রেমিট্যান্সে ১৮ শতাংশের বড় প্রবৃদ্ধি, জুনের শুরুতে সামান্য হ্রাস আইএমএফের কাছে নতুন করে আর্থিক সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ মে মাসে রপ্তানি আয় কমেছে ৭.০৯ শতাংশ, ১১ মাসের সম্মিলিত আয় নেমেছে ৪৩.৭৯ বিলিয়ন ডলারে<gwmw style="display:none;"></gwmw> নতুন চেয়ারম্যানকে ঘিরে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের বিক্ষোভ ৩য় দিনে, প্রধান কার্যালয় ঘেরাওয়ের হুমকি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ: ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকিতে প্রতি তিন টাকার এক টাকা<gwmw style="display:none;"></gwmw>

নারী ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি অসম্ভব: বিইএ-এর সেমিনারে অর্থনীতিবিদদের হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : বাংলাদেশে টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে শ্রমবাজারে নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন জোরদার করার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ যেভাবে কমছে, তা জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি ‘পলিসি ওয়ার্নিং সিগন্যাল’ বা নীতিনির্ধারণী সতর্কবার্তা।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ মিলনায়তনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি (বিইএ) এবং ইডেন মহিলা কলেজের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল— ‘বাংলাদেশের নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন: শ্রমবাজার প্রেক্ষাপট’।

নারীর অংশগ্রহণ হ্রাসে উদ্বেগ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়েমা হক বিদিশা। তিনি গত এক দশকে নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের অগ্রগতি সম্প্রতি স্থবির হয়ে পড়া এবং বিশেষ করে শহরাঞ্চলে এই হার কমে যাওয়ার বিষয়টিকে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে অভিহিত করেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান:

২০২৩ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ছিল ৪৬.৫৯ শতাংশ, যা ২০২৪ সালের একই সময়ে কমে ৪২.৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

মাত্র এক বছরের ব্যবধানে নারী শ্রমশক্তির আকার ২৫.৩ মিলিয়ন থেকে কমে ২৩.৭ মিলিয়নে নেমে এসেছে।

প্রধান অন্তরায় ও সুপারিশ ড. বিদিশা বলেন, পিতৃতান্ত্রিক কাঠামো, শিশু যত্ন কেন্দ্রের (চাইল্ড কেয়ার) অভাব, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং ‘নীট’ (শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণে নেই এমন নারী) হার বৃদ্ধি নারীর অগ্রযাত্রার প্রধান বাধা। তিনি পারিবারিক সেবামূলক কাজকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার এবং ‘ঘর থেকে বাজার’ পর্যন্ত নারীর যাতায়াত সুগম করতে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের আহ্বান জানান।

বিইএ-এর আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি বলেন, নারীর অংশগ্রহণ কেবল সামাজিক ন্যায়বিচারের বিষয় নয়, এটি জাতীয় উৎপাদনশীলতার অন্যতম পূর্বশর্ত। তিনি শ্রম আইনের সংস্কার, নারী-বান্ধব কর্মঘণ্টা, নিরাপদ যাতায়াত এবং কঠোর যৌন হয়রানি বিরোধী নীতিমালার ওপর জোর দেন।

নীতিনির্ধারণী সংকটের চিত্র সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, নারীর অংশগ্রহণের সাম্প্রতিক এই নিম্নগতি একটি ‘কাঠামোগত সংকট’। মূলধারার অর্থনীতিতে নারীর অবদানকে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে সমন্বিত নীতি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “ক্ষুদ্রঋণ কিছুটা সাহায্য করলেও শুধু ঋণের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়; এজন্য দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান প্রয়োজন।”

বিআইডিএস-এর গবেষণা পরিচালক ড. কাজী ইকবাল তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, গণমাধ্যমের সচেতনতা এবং সহায়ক নীতির মাধ্যমে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে পারলে এই নেতিবাচক প্রবণতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

সেমিনারে ইডেন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।