সোমবার ১০ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ:
৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ‘ন্যানো ঋণ’ চালুর উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষায় ২৫ ল্যাপটপ দিল স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বিদেশে বাংলাদেশি খেলাপিদের সম্পদ অনুসন্ধানে ৮ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশ ব্যাংক টাকায় বিদেশি ভ্রমণ প্যাকেজ বিক্রির সুযোগ পেলেন ট্যুর অপারেটররা: বাংলাদেশ ব্যাংক দেশে প্রথমবারের মতো ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ’ অকুপেশনের টাস্ক অ্যানালাইসিস ও অকুপেশনাল ম্যাপিং করেছে এনএসডিএ পাবলিক সেক্টরে অটোমেশন সেবা নিশ্চিতে ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরি সরকারের অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ জ্বালানি তেল আমদানিতে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করতে খসড়া নীতিমালা এনআরবিসি ব্যাংকের অর্ধবার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত অর্থবছর ২৬-এ কৃষি ঋণ বিতরণ ৪২,৮৩৪ কোটি টাকা ছাড়াল: লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯.৮৩ শতাংশ বেশি

তীব্র গরমে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি কর্মঘণ্টা হারাবে ঢাকা: বিশ্বব্যাংক

অর্থনীতি ডেস্ক, ঢাকা | ১ আগস্ট (বিডিইকোনমি)

তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় অতিরিক্ত গরমের কারণে বছরে ৪ লাখ ৬৫ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হবে, যা শহরের মোট বার্ষিক কর্মঘণ্টার প্রায় ৩ শতাংশ।

‘বসবাসযোগ্য ভবিষ্যৎ: দক্ষিণ এশিয়ার শহরে চরম তাপের মধ্যে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি সুরক্ষার উপায়’ শীর্ষক বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা তাপমাত্রা এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান আটটি শহরের ওপর এর প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি বাড়বে বহু গুণ

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে ঢাকার ক্ষতির পরিমাণ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে:

  • ২০৩০ সাল: ৪ লাখ ৬৫ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট।
  • ২০৫০ সাল: ৭ লাখ ৮ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ ক্ষতি।
  • ২০৮০ সাল: ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ১৬ লাখ ৫০ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমান, যা ঢাকার মোট বার্ষিক কর্মঘণ্টার ৭.৪ শতাংশ।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্য শহরের তুলনায় ঢাকার অবস্থা

দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান শহরগুলোর মধ্যে কর্মঘণ্টা হারানোর দিক থেকে ঢাকা শীর্ষে অবস্থান করছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখানো হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ প্রধান শহরগুলোতে পূর্ণকালীন চাকরির ক্ষতি হবে যথাক্রমে:

শহরসম্ভাব্য ক্ষতি (পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ)
ঢাকা৪,৬৫,০০০
কলকাতা৩,৬০,০০০
নয়াদিল্লি২,৬৬,০০০
মুম্বাই২,০৪,০০০
চেন্নাই১,৪১,০০০
আহমেদাবাদ৯৯,০০০
সুরাট৯৭,০০০
বারানসি৫১,০০০

বাংলাদেশ অর্থনীতি ও পোশাক খাতে প্রভাব

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কেবল ২০২৪ সালেই তীব্র দাবদাহের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আনুমানিক ১৩০ কোটি থেকে ১৮০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ০.৩ থেকে ০.৪ শতাংশ। বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে কাজ করা দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জীবনীশক্তি ব্যাপকভাবে কমছে।

তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের রূপান্তরে বাংলাদেশের ‘গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড’ উদ্যোগের প্রশংসা করে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, তাপজনিত চাপ সামলাতে সমন্বিত ব্যবস্থা না নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশসহ শীর্ষ চার তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশের রফতানি ক্ষতি হতে পারে মোট ৬ হাজার ৫৮০ কোটি ডলার।

প্রতিকারের পথ

চরম তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় ভারতের আহমেদাবাদের মতো সমন্বিত ‘হিট অ্যাকশন প্ল্যান’ এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আবহাওয়া সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার করা, কর্মপরিবেশের আধুনিকায়ন এবং টেকসই নগরায়ণ ছাড়া এই অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব নয় বলে প্রতিবেদনে জোর দেওয়া হয়েছে।