শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ডে খরচ ইনবাউন্ড লেনদেনের চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি: বাংলাদেশ ব্যাংক বৈশ্বিক ও জ্বালানি সংকটের মুখেও উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে লড়াই করে যাচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত স্পেনের বার্সেলোনা টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬-এ বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন যশোর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন, এটি অনন্য নজির: প্রতিমন্ত্রী অমিত<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ৮ মাসে জ্বালানিতে অতিরিক্ত খরচ ৪১২ কোটি ডলার: উপদেষ্টা তিতুমীর সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করল সরকার নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা জরুরি: শিক্ষামন্ত্রী পুঁজিবাজারে তরুণদের অংশগ্রহণ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য: বিএসইসি কমিশনার মধ্য অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৩.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, অর্জন ১.৭৪ বিলিয়ন ডলার

টাঙ্গাইল শাড়ি বয়ন শিল্পের প্রসারে প্রথমবার তৈরি হলো জাতীয় প্রশিক্ষণ ফ্রেমওয়ার্ক

ঢাকা, ১৬ জুন (বিডিইকোনমি ডটনেট) — বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং শ্রমঘন তাঁত শিল্পকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়ি বয়ন শিল্পের জন্য একটি বিস্তৃত এবং আন্তর্জাতিক মানের ‘কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড’ বা জাতীয় দক্ষতা মানদণ্ড চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ)।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর এনএসডিএ সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক (বিএনকিউএফ)-এর আওতায় প্রস্তুতকৃত ‘টাঙ্গাইল শাড়ি উইভিং (লেভেল-২)’ পেশার কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড (সিএস) এবং কোর্স অ্যাক্রেডিটেশন ডকুমেন্ট (ক্যাড) চূড়ান্তকরণ সংক্রান্ত একটি জাতীয় কর্মশালা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

এনএসডিএ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আবু আহমদ সিদ্দিকী, এনডিসি এবং ইনফরমাল সেক্টর ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলের (আইএসসি) চেয়ারম্যান মির্জা নূরুল গণী শোভন।

সভাপতির বক্তব্যে ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী বলেন, এনএসডিএ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর পেশার পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী, অনানুষ্ঠানিক এবং শ্রমঘন খাতগুলোকে জাতীয় দক্ষতা কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসতে নিরলসভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, “টাঙ্গাইল শাড়ি বয়নের জন্য নতুন এই দক্ষতা মানদণ্ড এবং কোর্স অ্যাক্রেডিটেশন চালু হওয়ার ফলে এই ঐতিহাসিক খাতের সঙ্গে জড়িত কারিগর ও শ্রমিকদের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে তাদের কাজের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও সুনির্দিষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”

এনএসডিএ প্রধান আরও জানান, বিগত ১০ মাসে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন খাতের চাহিদা অনুযায়ী ৮৫টি কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও প্রশিক্ষণ কারিকুলাম তৈরি ও পর্যালোচনা করেছে। এর মধ্যে আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষা এবং রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়াতে জামদানি ও টাঙ্গাইল শাড়ির মতো ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের জন্য কাঠামোগত প্রশিক্ষণ ফ্রেমওয়ার্ক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

জাতীয় সার্টিফিকেশন সিস্টেমের বৈশ্বিক সফলতার কথা উল্লেখ করে ড. চৌধুরী জানান, এনএসডিএ-এর ট্র্যাকিং সিস্টেম অনুযায়ী, ন্যাশনাল স্কিলস সার্টিফিকেট (এনএসসি) প্রাপ্ত দক্ষ কর্মীরা বিশ্বের ৫৮টি দেশে সফলভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া এই ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে প্রায় ৭০ হাজার সনদধারী কর্মসংস্থান লাভ করেছেন এবং ২০ হাজারেরও বেশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় দক্ষতার পরিধি বাড়াতে এনএসডিএ বর্তমানে সৌদি আরবের ‘তাকামল’, জাপানের ‘টেকনোগ্রাম’ ও ‘নেক্সাস গ্রুপ’ এবং অস্ট্রেলিয়ার ‘টিএএফই’ (TAFE)-সহ বিভিন্ন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ সার্টিফিকেশন ও ‘মিউচুয়াল রিকগনিশন এগ্রিমেন্ট’ (এমআরএ) স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

এছাড়া বিশ্ব শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, সিঙ্গাপুর ও সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে সম্প্রতি ৬টি দেশ-নির্দিষ্ট দক্ষতা মানদণ্ড এবং জাপানি ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষার কারিকুলাম প্রবর্তন করা হয়েছে। সনদপত্রের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এনএসডিএ এখন কিউআর কোড এবং ডিজিটাল স্বাক্ষরযুক্ত ডিজিটাল সার্টিফিকেট ইস্যু করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু আহমদ সিদ্দিকী এই উদ্যোগকে দেশের তাঁতি সম্প্রদায়ের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি ঘোষণা দেন, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড খুব শীঘ্রই টাঙ্গাইলে অবস্থিত তাদের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটকে এনএসডিএ-এর অধীনে নিবন্ধিত করবে, যাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশেষায়িত টাঙ্গাইল শাড়ি বয়ন কোর্সটি চালু করা যায়।

দিনব্যাপী এই কর্মশালায় কারিকুলামটি চূড়ান্ত করতে বিভিন্ন খাতের শিল্প প্রতিনিধি, বস্ত্র বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। অর্থনীতিবিদ ও খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ফ্রেমওয়ার্কের ফলে টাঙ্গাইল শাড়ির উৎপাদনশীলতা ও গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ঐতিহ্যবাহী এই বাংলাদেশি পোশাকের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।