মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ৮ মাসে জ্বালানিতে অতিরিক্ত খরচ ৪১২ কোটি ডলার: উপদেষ্টা তিতুমীর সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করল সরকার নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা জরুরি: শিক্ষামন্ত্রী পুঁজিবাজারে তরুণদের অংশগ্রহণ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য: বিএসইসি কমিশনার মধ্য অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৩.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, অর্জন ১.৭৪ বিলিয়ন ডলার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ: ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিতরণ ছাড়িয়েছে ১৪,৫১৯ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণ ব্যবসার লাইসেন্সে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বিত সার্কুলার জারি গবেষণা, প্রযুক্তি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের আহ্বান: এইউএসটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলন শুরু ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা ও আগ্রাসন নিয়ে উদ্বেগ, মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

২০২৫ সালে বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানির শীর্ষ গন্তব্য সৌদি আরব

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ২০২৫ সালে বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানির শীর্ষ গন্তব্য ছিল সৌদি আরব। এ সময় সাড়ে ৭ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক দেশটিতে কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ৭ লাখ ৫২ হাজার ৭১৫ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের জন্য সৌদি আরবে গেছেন।

২০২৫ সালে কাতারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ লাখ ৭ হাজার ৪৭২ জন কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া সিঙ্গাপুর ও কুয়েতে যথাক্রমে ৭০ হাজার ৫৬জন এবং ৭২ হাজার ৭১৭ জন বাংলাদেশিকে পাঠানো হয়েছে। 

বাংলাদেশ সৌদি আরবের সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানির একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা দুই দেশের ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে প্রথম চুক্তি। 

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য বহুবিধ ভিসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিএমইটি’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. আশরাফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ২০২৫ সালে পুরুষ ও নারী মিলে প্রায় ১১ লাখ ১৭ হাজার শ্রমিক বিদেশে পাঠিয়েছে।

তিনি জানান, ২০২৩ সালে মোট ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪৫৩ জন শ্রমিক বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য গিয়েছিলেন। আর ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ১১ হাজার ৯৬৯ জন।

আশরাফ হোসেন বলেন, নিরাপদ, দক্ষ এবং নিয়মিত অভিবাসন এখন জরুরি এবং সরকার তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সে কারণেই এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো উচিত।

বাংলাদেশ গত বছরের ডিসেম্বর থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা প্রত্যক্ষ করেছে। এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। যেমন- সরকারি ও অনানুষ্ঠানিক বিনিময় হারের মধ্যে ব্যবধান কমানো এবং অর্থপাচার রোধ।

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশি প্রবাসীরা দেশে প্রায় ৩২,৮১৬.৮৭ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট ৩৩.৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। পূর্ববর্তী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে আরো দেখা যায়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১৬ হাজার ৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ৬৫৮ মিলিয়ন ডলার।

তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রথমবারের মতো ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই অর্থবছরে পূর্বের রেকর্ড ভেঙে ৬.৪ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল, যার পরিমাণ ছিল ২৪.৮ বিলিয়ন ডলার।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, সরকার দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির জন্য আরো নতুন গন্তব্য অনুসন্ধান করছে। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, ব্রুনাই দারুসসালাম ও পূর্ব ইউরোপ।

এছাড়া বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সরকার নার্স, চিকিৎসক এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

রেক্রুটিং এজেন্টরা জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার মতো কিছু ঐতিহ্যবাহী গন্তব্যে বিদেশে কর্মসংস্থান কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। তবে নতুন গন্তব্য চিহ্নিতকরণ এবং কয়েকটি দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।