বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ:
মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড অনুমোদন করল বিএসইসি বিডিঅ্যাপসের সর্বকনিষ্ঠ ডেভেলপার ১১ বছরের যমজ ভাই তানভীর ও তাফসীর বাংলাদেশ-চীন সুসম্পর্ক সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তরুণ লেখকরা: লি শাওপেং ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবিতে গ্রাহকদের বিক্ষোভ বাংলা কিউআরে লেনদেন ১১০ কোটি টাকা ছাড়াল চট্টগ্রামে রবির ‘এলিট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’, যুক্ত হলো ২১ নতুন অংশীদার ক্রিয়েটিভ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন: ৫০ হাজার কর্মসংস্থান ও জিডিপিতে অবদান বৃদ্ধির লক্ষ্য ২২ দিনে প্রবাসী আয় ২১৫ কোটি ডলার ছাড়াল ইনভেস্ট বাংলাদেশ-এর কার্যক্রম শুরু

ঔষধের মূল্য বাড়লে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাবে প্রান্তিক মানুষের: গবেষণা প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :  উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের (এলডিসি গ্রাজুয়েশন) ফলে দেশের ঔষধ শিল্প প্রভাবিত হলে প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তি চরম সংকটে পড়বে। ঔষধের মূল্য সামান্য বৃদ্ধি পেলেও বিপুল সংখ্যক মানুষকে চিকিৎসা বন্ধ করে দিতে হতে পারে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার পুরানা পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ‘বাংলাদেশ এলডিসি গ্রাজুয়েশন ওয়াচ’-এর পক্ষ থেকে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। 2সভায় আলোচনার শুরুতে সকালে পরলোকগমন করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

গবেষণার মূল ফলাফল শ্রীমঙ্গলের চা শ্রমিক এবং ঢাকার দলিত সম্প্রদায়ের ১০০ জন নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়, যারা দীর্ঘ ৫ বছর ধরে বিভিন্ন ক্রনিক রোগে ভুগছেন। গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী:

  • আয়ের বড় অংশ ঔষধে: এই নিম্ন আয়ের মানুষরা তাদের মাসিক আয়ের গড়ে ৩৩% ব্যয় করেন ঔষধ ক্রয়ের জন্য। ক্যানসার আক্রান্ত কোনো সদস্য থাকলে পরিবারকে আয়ের ১৩৫% পর্যন্ত চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করতে হচ্ছে।
  • চিকিৎসা বন্ধের ঝুঁকি: অতীতে ঔষধের দাম বাড়ায় ইতিমধেই ৮৪% নারী এবং ৫৩% পুরুষ চিকিৎসা বন্ধ করেছেন অথবা ওষুধের ডোজ কমিয়ে দিয়েছেন।
  • ভবিষ্যৎ শঙ্কা: ভবিষ্যতে ঔষধের দাম ২০-৩০% বাড়লে ২৩% নারী এবং ২৯% পুরুষ আর চিকিৎসা নিতে পারবেন না। এছাড়া প্রায় ৬০% মানুষ চিকিৎসা চালিয়ে যেতে ঋণ নিতে বাধ্য হবেন।

বক্তাদের মতামত মতবিনিময় সভায় গণসংহতি আন্দোলনের সদস্য ফিরোজ আহমেদ বলেন, সংবিধানে চিকিৎসাকে মৌলিক অধিকার বলা হলেও তা আদালতে বলবৎযোগ্য নয়। 10বর্তমানে চিকিৎসার দায়িত্ব রাষ্ট্রের হাত থেকে বেসরকারি খাতের হাতে চলে গেছে। এলডিসি গ্রাজুয়েশনের আগেই নাগরিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

বারসিকের পরিচালক পাভেল পার্থ সতর্ক করে বলেন, ট্রিপস চুক্তির (মেধাস্বত্ব আইন) কারণে ঔষধ শিল্পে যে ক্ষতি হবে তা হবে অপরিমেয়। এছাড়া চা শ্রমিক প্রতিনিধি মোহন রবিদাস এবং গার্মেন্টস শ্রমিক নেত্রী সুলতানা বেগম শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও চিকিৎসার আর্থিক অক্ষমতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন জানান, এলডিসি গ্রাজুয়েশনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে তারা আরও গবেষণা করবেন এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাবেন।

অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন নাগরিক উদ্যোগের বরকত উল্লাহ মারুফ এবং সভাপতিত্ব করেন পিপলস হেলথ মুভমেন্টের সমন্বয়কারী আমিনুর রসুল।